বাংলায় নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি কার্যকর করতে গেলে তাঁর মৃতদেহের উপর দিয়ে করতে হয়। নয়া আইনের প্রতিবাদে প্রথমবার রাস্তায় নেমেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ,
হিন্দু- মুসলিম দাঙ্গা বাঁধাতে চাইছে বিজেপি। 

নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি-র প্রতিবাদে এ দিন রেড রোডে অম্বেদকর মূর্তি থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত মিছিল করেন তৃণমূলনেত্রী। মিছিলের শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রাণ থাকতে বাংলায় নয়া আইন এবং এনআরসি করতে দেবেন না তিনি। যতক্ষণ নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসি প্রত্যাহার না করা হচ্ছে, ততক্ষণ তৃণমূল রাস্তায় থাকবে বসে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেউ পাশে না থাকলে তিনি রাস্তায় থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরিকত্ব আই অসাংবিধানিক বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

গত প্রায় চারদিন ধরে রাজ্য জুড়ে নয়া আইনের প্রতিবাদের নামে রীতিমতো তাণ্ডব চলছে। ট্রেনে, বাসে আগুন থেকে অবরোধ- অবিরাম বিশৃঘঙ্খলার মুখে পুলিশ প্রশাসনের নমনীয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন হিংসা বন্ধ করার আবেদন জানিয়ে ট্রেন, পোস্ট অফিসে আগুন দিতে বারণ করেন। কেন্দ্র সব ট্রেন বন্ধ করে দিচ্ছে বলেও মন্তব্য় করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওরকম হিংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেন মমতা। সংখ্যালঘুদের একাংশকে উস্কানি দিয়ে এই উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাণ্ডব, বিশৃঙ্খলা না করে রাষ্ট্রপতিকে কোটি কোটি চিঠি পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। কালো কাপড়ে রক্ত দিয়ে সই করার কথাও শোনা যায় তাঁর মুখে। 

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন স্বীকার করে নিয়েছেন, অশান্তি থামাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব এসেছিল তাঁর কাছে। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব খারিজ করেছেন। মমতা বলেন, 'আমি বলে দিয়েছি আমাদের পুলিশই যথেষ্ট। বাংলার মানুষই সব সামলে নেবে।' হুঁশিয়ারির সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সরকার ফেলতে চাইলে ফেলে দিন, কিন্তু আমরা সম্মানের জন্য লড়াই করি। কোনওদিন আপনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করব না।'

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বার বার বোঝানোর চেষ্টা করেন, নয়া আইনে শুধুমাত্র সংখ্যালঘু নয়, সব ধর্মের মানুষই বিপদে পড়বেন। দেশের আইনের বিরোধিতা করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতারা। মমতা এ দিন পাল্টা বলেন, নয়া আইনের সমালোচনা করেছে রাষ্ট্রসংঘ। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর বাতিল করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ মমতার।