ভূতের তাড়া খেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । লোকসভা ভোটের  প্রত্যাশিত ফল তাঁর মনোবল ভেঙে দিয়েছিল।  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল থেকে যে ভাবে বিজেপির সামান্য  সমর্থকদের আচরণের প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন তিনি, তাতেই বোঝা যাচ্ছিল আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরছে তাঁর। 

তবে এবার ধীরে ধীরে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মমতা। গঠনমূলক ভাবে বিজেপি বিরোধিতার ছক সাজাচ্ছেন তিনি।  জেনে নেওয়া যাক মমতার দশ নতুন চালঃ

১ গতদিনই ফেসবুকে জয় শ্রীরাম সম্পর্কে তাঁর উষ্মার কারণ বিশদে লেখেন মমতা। এই মুহূর্তে মমতার ফেসবুকে ফলোয়ার তিন মিলিয়ন। অর্থাৎ তিরিশ লক্ষ লোক তাঁর বিরোধীতার বার্তাটি পাবে এই লেখনীর মাধ্যমে।

২  ভোট দিয়েছে 'বিদ্যাসাগর'। এ কথা মমতা খুব ভালই জানেন। শেষ দফাতেই  সবচেয়ে ভাল ফল করেছে তৃণমূল। কাজেই মনীষীদের সঙ্গে রাখতে চান মমতা। ১১ জুন একটা বিদ্যাসাগর মূর্তি দেওয়া হবে বিদ্যাসাগর কলেজে। পরে সেটাকে ব্রোঞ্জের মূর্তি করে দেওয়া হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর মূর্তি বসবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে।


৩ যে গরু দুধ দেয় তাঁর লাথি খাব, মমতার এই মন্তব্যই বুঝিয়ে দিয়েছিল সংখ্যালঘু ভোট তাঁর সহায়। অতএব কোনও মতেই সেই ভোটকে  হাতছাড়া করতে চান না তিনি। এদিন ব্যস্ততা পেরিয়েও তাঁকে দেখা গেল পুরসভার ইফতার পার্টিতে। তাঁর দলের অন্য সাংসদরাও সংখ্যালঘু জনসংযোগ ঠিক রাখছে তাঁরই অঙ্গুলিহেলনে।

৪ আসছে ২১ জুলাই। তার আগে জনসংযোগ যাত্রা করতে চাইছেন তিনি।  বিধায়কদের সার্বিক উপস্থিতি চাই এই মিছিলগুলিতে। লক্ষ্য এলাকায় এলাকায় যোগাযোগের মাত্রা বাড়ানো।

৫ অবিশ্বাস, সন্দেহর রাজনীতি দলকে ভিতর থেকে চিড়ে ফেলছে, জানেন মমতা। তাই সেগুলিকে ঝেড়ে ফেলে বিশ্বাসের ইতিবাচক রাজনীতির দিকেই তাঁর ইঙ্গিত। বিধায়ক ভাঙানোর আগাম খবরগুলিকে 'ফেক নিউজ' বলে দাবি করছেন মমতা। এতে হয়তো দলীয় কর্মীদের মনোহল কিছুটা বাড়বে।