এবার রাজ্য়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্য়েই কেন্দ্র-রাজ্য় সংঘাত লেগে গেল। কেন লকডাউনে রাজ্য়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠাল সরকার তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ মুখ্য়মন্ত্রী। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত বলে পাল্টা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। যে পদ্ধতিতে রাজ্য়ে এই টিম পাঠানো হয়েছে নবান্নে তার সমালোচনা করেন খোদ মুখ্য়সচিব রাজীব সিনহা। 

এদিন বিকেলেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় দল পাঠানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,তাঁর সঙ্গে ফোনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। কেন্দ্রীয় দল আসা নিয়ে দুপুর ১টায় কথা হয় অমিত শাহের সঙ্গে। কিন্তু কেন্দ্রীয় দল রাজ্যে চলে আসে সকাল ১০.১০ মিনিটে। কেন্দ্রীয় দল আসার মাত্র ৩০ মিনিট আগে মুখ্যসচিবের কাছে কেন্দ্রীয় দল আসা নিয়ে চিঠি আসে। আগে না জানিয়ে দল পাঠানো প্রতিষ্ঠিত রীতি বিরোধী।

একই কথা শোনা যায় নবান্নে রাজীব সিনহার মুখে। মুখ্য়সচিব বলেন, আমার তো মনে হচ্ছে ওঁরা (আন্তঃমন্ত্রক দলের সদস্যরা) এখানে আসার পর আমাদের জানানো হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ বাংলার সাতটি জেলার পরিস্থিতিকে স্পর্শকাতর বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই ওই জেলাগুলির পরিস্থিতি দেখতে আন্তঃমন্ত্রক দল পাঠিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে এ কথা জানিয়ে দেয় দিল্লি। ওই চিঠিতেই তারিখের স্থানে ১৯ এপ্রিল লেখা রয়েছে। কিন্ত রাজীব সিনহার দাবি, নবান্নে যখন সেই চিঠি এসেছে তখনই তাঁরা জানতে পারেন, দিল্লি থেকে প্রতিনিধি দল রওনা হয়ে গিয়েছে।

এদিকে লকডাউন নিয়ে বাংলায় কেন্দ্রের দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত বলে টুইটারে আগেই মন্তব্য় করেন মুখ্য়মন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে প্রশ্ন করেছেন মমতা। মুখ্য় জানতে চেয়েছেন, কীসের ভিত্তিতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার তা অবিলম্বে স্পষ্ট করা হোক। অন্যথায় এই উদ্য়োগের সঙ্গে রাজ্য় সরকার অগোতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। এমনকী উপযুক্ত কারণ ছাড়া কেন্দ্রের এই পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘটনা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর সঙ্গে কাব কায় না বলে মন্তব্য় করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই বলেই থেমে থাকেননি মুখ্য়মন্ত্রী।  টুইটে তিনি বলেন, কোভিড১৯ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শ ও গঠনমূলক সমর্থনকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু ২০০৫ সালের বিপর্যয় মোকাবিলা আইনকে কাজে লাগিয়ে কেন রাজ্য়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়।

রাজ্য়ে লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল ঢুকেছে বাংলায়। কেন্দ্রীয় দলে থাকবেন বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধি। ইতিমধ্য়েই রাজ্য়ে পৌঁছে গিয়েছে সেই দল। মূলত, দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজ্য়ের লকডাউন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল। কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি যাবে এই দল। প্রথম ভাগের দলের নেতৃত্বে থাকবেন অপূর্ব চন্দ্র অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ডিপার্টমেন্ট ওফ ডিফেন্স। এনার অধীনে থাকবে চারজনের টিম। যারা যাবেন কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুর। অন্য় দলটির নেতৃত্ব দেবেন বিনীত জোশি।যিনি অ্য়াডিশনাল সেক্রেটারি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট। তার অধীনেও আরও চারজন সদস্য় থাকবেন। অর্থাৎ মোট পাঁচ জন করে দুটি দল ছড়িয়ে পড়বে রাজ্য়ের বিভিন্ন অঞ্চলে।

সম্প্রতি রাজ্য়ে লকডাউন ঠিকভাবে না মানার অভিযোগে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। দুবার নবান্নে পৌঁছেছে সেই চিঠি। রাজ্য়ে কোন কোন জায়গায় লকডাউন মানা হচ্ছে না উল্লেখ করা হয়েছে তাও। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল রাজ্য়ে এসে জনমানুষের গতিবিধি দেখার পাশাপাশি রেশনিং ব্য়বস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে কিনা তা দেখবে। এছাড়াও রাস্তায়  বেরোনোর সময় মানুষ মাস্ক পরে বেরোচ্ছে কিনা তাও নজর দেবে এই দল। পরবর্তীকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে জমা দেওয়া হবে এই রিপোর্ট।

জানা গিয়েছে, বাংলা ছাড়াও মধ্য়প্রদেশের ইন্দৌর, মহারাষ্ট্রের পুণে, মুম্বাইতে ও রাজস্থানের জয়পুরে যাবে এই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল। রাজ্য় রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নিয়ে নতুন করে করোনার মধ্য়ে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য়ের মতানৈক্য তৈরি হতে পারে। যেহেতু স্বাস্থ্য় রাজ্য়ের বিষয় তাই এই নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ভালো ভাবে নেবে না মমতার সরকার।