উনিশে হাফ একুশে সাফ। লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই স্লোগান দিয়েই প্রচারে নেমেছিল বিজেপি। এবার তিন বিধানসভা উপনির্বাচনে ফল প্রকাশের পর সেই স্লোগানকেই  বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার করলেন মমতা। একটি নিউজ চ্য়ানেলে ফোনে সাক্ষাৎকারে মমতা বললেন, ওরা একুশে সাফের কথা বলেছিল। তিন উপনির্বাচন দেখিয়ে দিল, বিজেপি রাজ্য থেকে উনিশেই সাফ হয়ে গেছে।   

দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২১ বছরে একবারও এই দুই আসনে জয় পাননি। লোকসভা নির্বাচনে এই দুই কেন্দ্র থেকে বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়েছিল বিজেপি। তাই বিধানসভার উপনির্বাচনে খড়গপুর ও কালিয়াগঞ্জে জয় নিশ্চিত ভেবে নিয়েছিল গেরুয়া ব্রিগেড। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, উল্টো চিত্র। দল প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদর থেকে জিতল তৃণমূল। দলের এই জয় দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ওদের অহংকার,ঔদ্ধত্যের জবাব দিয়েছে বাংলার মানুষ। এই জয় বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ ঔদ্ধত্য সহ্য করে না। 

পরিসংখ্যান বলছে, লোকসভা নির্বাচনে কালিয়াগঞ্জে ৫২শতাংশ ও খড়গপুরে ৫৭ শতাংশ  ভোট পায় বিজেপি। সেই ভোটের মার্জিন ক্রস করে বিজেপিকে হারাতে সফল হয়েছে তৃণমূল। স্বাভাবিকভাবেই যার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বলেন, লোকসভা ভোটের পর থেকেই বিজেপির অহংকার বেড়ে গিয়েছিল। এনআরসি করে দেশ থেকে য়াক তাকে বের করে দিতে বলছিল।  নাগরিকত্ব দেওয়ার ওরা কে! এমনিতেই তো সবাই এ দেশের নাগরিক। তাহলে ওরা ঠিক করে দেওয়ার পর সবাই আবার দেশের নাগরিক হবে। 

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি তৃণমূল নেত্রী। তৃণমূলের জয়ের পর তিনি  বলেন, বিজেপি এর আগে কালিয়াগঞ্জের রাজবংশীদের ভুল বুঝিয়েছিল। কিন্তু এবার আর তাঁরা বিজেপি-র ফাঁদে পা দেননি। তৃণমূলের ঘরেই ভোট দিয়েছেন। খড়্গপুরে আবার অবাঙালিরা আমাদের প্রচুর ভোট দিয়েছেন। সব ধর্ম, জাতি ও ভাষাভাষি মানুষ যে তৃণমূলের পাশে রয়েছেন, আমাদের সমর্থন করছেন তা এই ভোটের ফলাফলে পরিষ্কার। এই জয় তাই মানুষের জয়।