মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে ৪৪ তম কলকাতা বইমেলা। সন্ধ্যে সাতটার সময় বইমেলার উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কুদাসেভ নিকোলাই রিশাতোভিচ। পরশুদিন থেকে বইমেলার গেট খুলে যাবে বইপ্রেমীদের জন্য। এবারের বইমেলার থিম কান্ট্রি' রাশিয়া । ২০২১ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা উৎসর্গ করা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। আগামী বছর কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হবে বাংলাদেশ। কলকাতা বইমেলায় এবার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের ৪১টি প্রকাশনা সংস্থা । 

বইমেলায় বাংলাদেশসহ ২০টি দেশ যোগ দিচ্ছে। রাশিয়া, কোস্টারিকা, স্পেন, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, গুয়াতেমালা, আর্জেন্টিনা থেকে আসবেন কবি, সাহিত্যিক ও লেখকেরা। বইমেলায় আয়োজিত সাহিত্য উৎসবে তাঁরা যোগ দেবেন। এসব দেশের পাশাপাশি বইমেলায় যোগ দেবে জাপান, হাঙ্গেরি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও পেরু।
এবারের বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন তৈরি হচ্ছে শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ ভবনের আদলে। এই প্যাভিলিয়নে ঠাঁই পাবে বাংলাদেশের ৪১টি প্রকাশনা সংস্থার বই। এর মধ্যে নয়টি থাকছে সরকারি প্রকাশনা সংস্থা।

সল্ট লেকের সেন্ট্রাল পার্কে এবারের বইমেলায় কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ৬০০ প্রকাশনা সংস্থা যোগ দিচ্ছে। আরও যোগ দিচ্ছে ২০০টি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনা সংস্থা। সদ্য প্রয়াত সাহিত্যিক নবনীতা দেব সেন এবং বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাদের স্মরণে তৈরি করা হচ্ছে দুটি প্যাভিলিয়ন। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের নামকরণ করা হয়েছে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের নামে। প্রেস কর্নারের নামকরণ করা হয়েছে দৈনিক বর্তমানের প্রয়াত সম্পাদক শুভা দত্তের নামে। আর মুক্তমঞ্চের নামকরণ করা হয়েছে সাহিত্যিক অদ্রীশ বর্ধনের নামে।

এবারের বইমেলার মূল স্লোগান বই কিনুন, লাইব্রেরি জিতুন। বইমেলায় আগত বইপ্রেমীদের জন্য লটারির আয়োজন করা হয়েছে প্রতিদিন। লটারি বিজয়ীরা প্রতিদিন পাবেন ১৫ হাজার টাকার বই। পাঁচজন বিজয়ীকে দেওয়া হবে ২৫ হাজার টাকার বই।  সেরা বিজয়ী পাবেন ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার গড়ার জন্য বই।

এবারের বইমেলায় এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে , গিল্ডের সহযোগিতায় কলকাতা বইমেলায় বিদ্যাসাগরের ২০০ বছর উপলক্ষে  থাকছে বিশেষ মিউজিয়াম ।  থাকবে প্রথম বইমেলায় থাকবে অফিশিয়াল ম্যাসকট বৃদ্ধ পেঁচা "টিটো" । ৩০  জানুয়ারি পালিত হবে থিম কান্ট্রি' রাশিয়া দিবস । দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারি শিশু দিবস। বাংলাদেশ দিবস ৯ফেব্রুয়ারি শেষ দিন। পুরস্কার প্রদানও ৯ তারিখ। মেলার এক নম্বর গেটে সম্প্রীতি গেট। তিন নম্বর গেট ইন্ডিয়া গেট-এর আদলে গড়া হয়েছে। ন নম্বর গেট জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির গেটের  আদলে গড়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফের দিন বইপ্রেমীদের জন্য় প্রস্তুত হচ্ছে কলকাতা বইমেলা।