ঠিক বলতে গিয়ে বেঠিক। বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে করে বসলেন বেফাঁস মন্তব্য। ইতিহাস বিকৃত করে বাবুল সুপ্রিয় বললেন, সতীদাহ প্রথা বন্ধ করেন বর্ণ পরিচয়ের স্রষ্টা। যার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার ট্রোলের শিকার হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। নেট দুনিয়ায় তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে অজস্র মিম।

স্তূতি করতে গিয়ে বিচ্যুতি। বিদ্যাসাগরের গুণগান করতে গিয়ে জড়িয়ে ফেলেছিলেন রাম মোহন রায়ের অবদান প্রসঙ্গ। যার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলের শিকার হলেন বাবুল সুপ্রিয়। শেষমেশ নিজেই ভুলের কথা স্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। সঙ্গে খোঁচা দিলেন যাদবপুরের বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু ততক্ষণ যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। মিমে দেখা গেছে,ইতিহাস বিকৃতির শাস্তি স্বরূপ বাবুলের চুল টানছেন রামমোহন রায়। কদিন আগেই যাদবপুরকাণ্ডে বাবুলের চুল ধরে টানার ছবি ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়। ছবিতে সংস্কৃত কলেজের ছাত্র দেবাঞ্জন বল্লভ চট্টোপাধ্য়ায়কে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর চুল টানতে। এই দেবাঞ্জনের জায়গাতেই বসানো হয়েছে রাজা রামমোহনের মুখ। 

এখানেই শেষ হয়নি মিমের বাহার। কেউ কেউ মিমে লেখেন, বিদ্যাসাগর সতীপ্রথার অবলুপ্তি ঘটান,এই বিদ্যে নিয়ে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের কাছে এনআরসি-র ফুল ফর্ম জানতে চাস। যদিও এই মিমের জন্য পাল্টা যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদেরও খোঁচা দিয়েছেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ। টুইটে বাবুল লেখেন, সত্যি আজ একটা ভুল তো করেছি। বিদ্যাসাগর নিয়ে বলবার সময় বিধবা বিবাহ বলার সঙ্গে সতীদাহ প্রথার কথাও বলে ফেলেছি। এটা একেবারে স্লিপ অফ টাং। এবার মানুষ কত কি লিখছে। বিশেষ করে বামেরা। যদিও রাজা রামমোহন রায় আমায় মাফ করে দিয়ে হাসিমুখে এসএমএস করেছেন। সঙ্গে আশীর্বাদও করেছেন। আপনারা পারবেন কি ? তবে আর যাই হোক মানুষের ক্ষতি কিন্তু করিনি। বৃষ্টির দিনে চা তেলেভাজার সাথে আলোচনা করার মতো একটা প্রসঙ্গ তো পেলেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এনআরসি-র পুরো নাম কি তা জিজ্ঞাসার সঙ্গে এর কিন্তু কোনও সম্পর্ক নেই। যদিও বাবুলের এই টুইটের পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধ হয়নি ট্রোলের বন্যা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বাগে পেয়ে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্য়তা নিয়েও বলতে ছাড়ছেন কেউ।