বউবাজারে মেট্রোর কাজের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি নতুন করে তৈরি করে দেবে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। এ দিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মেট্রো কর্তাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তেই নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও রাজ্য সরকারের তরফে মেট্রো রেলকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল-

  • যে বাড়িগুলি মেরামতি সম্ভব নয়, সেগুলি ভেঙে নতুনবাড়ি তৈরি করে দিতে হবে। এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে মেট্রো। বাকি বাড়িগুলি সারিয়ে দেবে মেট্রো রেল। 
  • দোকানের বদলে দোকান তৈরি করে দিতে হবে। এতেও সম্মতি দিয়েছে মেট্রো রেল। 
  • বাড়ি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভাড়া থাকার ব্যবস্থা হবে। হয় মেট্রো ভাড়া বাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে, নয়তো কোনও পরিবার ভাড়া বাড়িতে থাকলে বাড়ি ভাড়ার টাকা মিটিয়ে দেবে মেট্রো রেল।
  • যতদিন না পর্যন্ত দোকান তৈরি হচ্ছে, ততদিন ব্যবসায়ীদের কত টাকা ক্ষতি হচ্ছে, তা হিসেব করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য মেট্রো রেলকে অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 
  • ক্ষতিপূরণের হিসেব পরে করা হবে। আপতকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সমপরিমাণ সাহায্য করবে রাজ্য সরকারও। 
  • প্রতিটি পরিবারের একজনকে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বের করে আনার অনুমতি দেওয়া হবে। 

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিপর্যয় এড়াতে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, 'সম্পূর্ণ ভাবে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সমীক্ষা করে দেখা উচিত যাতে এই ধরনের বিপর্যয় আর ভবিষ্যতে না হয়।মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কোর গ্রুপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।' 

আরও পড়ুন- মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল তিনতলা বাড়ি, দুর্গা পিতুরি লেন জুড়ে হাহাকার

আরও পড়ুন- ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ মেট্রোর কাজ, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

যে পরিবারগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে শীল পরিবারও রয়েছে। ওই পরিবার যে বাড়িতে থাকত, সেটি এ দিন ভেঙে পড়েছে। ওই পরিবারের মেয়ের বিয়েতে রাজ্য সরকার পাঁচ লক্ষ টাকা সাহায্য করবে। মেট্রোকেও সমপরিমাণ অর্থ সাহায্যের অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানিয়েছেন, মোট বাহান্নটি বাড়ি মেট্রোর কাজের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে চুরি রুখতে বসানো হবে সিসিটিভি। 

ক্ষতিপূরণের বিষয়ে রাজ্য সরকার যে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তার অধিকাংশগুলিতেই রাজি হয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তবে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কীভাবে হিসেব করা হবে, তার পরিমাণই বা কী হবে, তা উপরমহলে কথা বলেই রাজ্যকে জানাবেন মেট্রো কর্তারা। 

তবে কেএমআরসিএল-এর এমডি মানস সরকার জানিয়ে দিয়েছেন, বউবাজারে যে বিপত্তি ঘটেছে, তাতে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ শেষ হতে আরও অন্তত একবছর সময় বেশি লাগবে।