নাথিং ইজ ইমপসিবেল.. সপ্তশৃঙ্গ আর সপ্ত আগ্নেয়গিরি জয় করে তা তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন। তবে স্রেফ নিজের লক্ষ্যপূরণ করেই খুশি থাকতে রাজি নন পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। বরং তিনি চান, যাবতীয় প্রতিকূলতাকে চুরমার করে লক্ষ্যভেদ করুন সকলেই।  নয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে এবার চাকরি ছাড়লেন এই বাঙালি পর্বতারোহী। 

বসন্ত সিংহরায়, দেবাশিষ বিশ্বাস, ছন্দা গায়েন... বাংলার এভারেষ্টজয়ী পর্বতারোহীর সংখ্যা কম নয়। এভারেষ্টের শীর্ষে পা রেখেছেন সত্যরূপ সিদ্ধান্তও। কিন্তু এটুকুই বলতে সবটা বলা হয় না।  মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই সত্যরূপ এমন সব কাণ্ড ঘটিয়েছেন, যা কল্পনাতীত। বিশ্বের সাতটি মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয় করেছেন, উঠেছেন সাতটি মহাদেশের সাতটি আগ্নেয়গিরি চুড়োয়ও। বিশ্বের কনিষ্ঠতম পর্বতারোহী হিসেবে সপ্তশৃঙ্গ ও সপ্ত আগ্নেয়গিরি জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। আপাতত তাঁর লক্ষ্য, উত্তর মেরু জয়। আর সেটি যদি করতে পারেন, তাহলে আরও একটি অন্যন্য নজির গড়বেন এই বাঙালি পর্বতারোহী। 

কলকাতার বেহালায় বাড়ি সত্যরূপের। তবে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মসূত্রে থাকেন বেঙ্গালুরুতে। পেশায় সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট সত্যরূপ। সিকিমে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেই গিয়ে প্রথমে পাহাড়ে চড়ার নেশা জাগে। বলা ভালো, পাহাড়ের প্রেমে পড়ে যান তিনি। সেই শুরু, গত কয়েক বছরে একের পর এক দুর্গম শৃঙ্গ জয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সত্যরূপ। কিন্তু অভিযানের খরচও তো কম নয়! টাকা জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় সত্যরূপকে। বন্ধু-শুভানুধ্যায়ীরা যে যেমন পারেন, সাহায্য করেন। আর বাকিটা ব্যাঙ্ক লোন। এভাবেই নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। 

এখন কথা হচ্ছে, সত্যরূপ সিদ্ধান্ত যদি পারেন, তাহলে আপনি পারবেন না কেন? কথাটা বলা যতটা সহজ, করে দেখানো কিন্তু ততটাই কঠিন। সত্যরূপের মা গায়ত্রী সিদ্ধান্ত জানালেন, 'পাহাড়ে চড়া বা অ্যাডভেঞ্চার স্পোটর্সের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষকে তাঁদের লক্ষ্যপূরণে অনুপ্রাণিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণও নিয়েছেন এই বাঙালি পর্বতারোহী। তাঁর সিদ্ধান্তে পরিবারের লোকেদের পূর্ণ সমর্থন আছে। ' 
 
তাহলে কী আর পাহাড়ে চড়বেন না সত্যরূপ সিদ্ধান্ত? সত্যরূপের বন্ধু দীপাঞ্জন দাস জানালেন, পাহাড়ে অভিযান যেমন চলছে, তেমনি চলবে। সত্যরূপ চান, তাঁর মতোই আর সকলেই নিজের লক্ষ্যে সফল হোক। সকলকেই অনুপ্রাণিত করার মহৎ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি। নিজের খরচ চালানোর জন্য আপাতত বিভিন্ন জায়গায় মোটিভেশনাল স্পিকার ও চুক্তিভিত্তিক সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট হিসেবে কাজ করবেন তিনি। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে প্রকৃতির পাঠ দেওয়ার জন্য পাহাড়ে নিয়ে যাবেন সত্যরূপ। এখন যেমন একদল মানুষকে নিয়ে এভারেস্টের বেস ক্যাম্প গিয়েছেন তিনি।