মুকুল রায়ের কোনও যুক্তিই ধোপে টিকল না৷ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে গলার কন্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হলো বিজেপি নেতাকে। ব্যাঙ্কশাল আদালতের সেকেন্ড স্পেশ্যাল কোর্টের বিচারক সুজাতা খড়্গর এজলাসে জমা পড়ে নমুনা৷ মুকুলের আইনজীবী শুভাশিস দাশগুপ্ত জানান, নিম্ন আদালতে কন্ঠস্বরের নমুনা জমা দেওয়ার কথা জানানো হবে হাইকোর্টে। মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে আগামী সপ্তাহে। মুকুলের অবশ্য দাবি, মিথ্যে মামলায় তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। 

বড়বাজার আর্থিক দুর্নীতি মামলায় কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য মুকুল রায়কে দিয়েছিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিজেপি নেতা মুকুল রায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু বিচারপতি রাজশেখর মান্থা নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখেন। গত ১২ ডিসেম্বর তিনি নির্দেশ দেন, ১০ জানুয়ারির মধ্যে নিম্ন আদালতে কন্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে মুকুলকে। ওই নমুনা থাকবে মুখবন্ধ খামে এবং এই মামলা ছাড়া অন্য কোনোও মামলায় তাঁর এই কন্ঠস্বরের নমুনা ব্যবহার করা যাবে না৷ 

২০১৮ সালের জুলাই মাসে বড়বাজার এলাকা থেকে  প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা সহ কল্যাণ রায় বর্মণ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে কলকাতা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি জেরায় জানান যে মুকুল রায়ের নির্দেশেই ওই টাকা নিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন। এমন কী পুলিশের এও দাবি করে, গ্রেফতার হওয়ার আগে ওই ব্যক্তি মুকুলের সঙ্গেই ফোনে শেষবার কথা বলেছিলেন। 

গত ৪ ফ্রেব্রুয়ারি কলকাতা পুলিশ মুকুলের কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য আর্জি জানায় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। নিম্ন আদালত মুকুলকে কন্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেয়। কিন্তু  তিনি নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন।  তাঁর দাবি, এই মামলায় তিনি একজন সাক্ষী। তিনি অভিযুক্ত নন।  তাই তাঁর কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে পারে না পুলিশ। যদিও সরকারি কৌঁসুলি শাশ্বত গোপাল মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তদন্তের কারণেই মুকুলের কন্ঠস্বরের নমুনা প্রয়োজন। 

এ দিন কন্ঠস্বরের নমুনা জমা দেওয়ার পর মুকুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে গত দু' বছরে তাঁর বিরুদ্ধে মোটি ৪১টি মামলা দায়ের করেছে রাজ্য সরকার। বোঝাই যাচ্ছে মিথ্যে মামলা করে আমায় ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে দায়ের হওয়া ২১টি মামলায় অভিযোগকারীরাই প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হলফনামা দিয়ে স্বীকার করেছেন যে পুলিশের চাপেই তাঁরা মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছিলেন।