'জন্মিলে মরিতে হবে,অমর কে কোথা কবে।' জীবনের এই বৃত্ত ঘিরেই আমাদের আনাগোনা। জন্ম-মৃত্য়ুর এই খেয়ালিপনা ঠাঁই পেয়েছে নাকতলা উদয়ন সংঘের পুজোয়। উমাকে ঘরে আনতে এবার তাঁদের ভাবনা 'জন্ম দ্য বার্থ'। 

গত বছর তাঁদের থিম ছিল 'কাল'। কালের চরিত্রে দুর্গাকে ধরেছিল নাগতলা। এবারও সংঘের পুজোয় থাকছে নতুন চমক। ভবতোষ সুতারের ভাবনায় রূপ পাবে নাকতলা উদয়ন সংঘ। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সংঘের থিম। যেখানে পুজোর বিপণন দূত ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত হাজির হয়েছেন পদ্মহাতে। তবে রহস্য ধরে রাখতে এখনই সব কিছুর খোলসা করেনি পুজো কমিটি। যেখানে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। 

 

যতটুকু আঁচ করা যাচ্ছে,ভবতোষ সুতারের ভাবনা ঘিরে এমনিতেই আলাদা উন্মাদনা রয়েছে নাকতলায়। কলকাতার শিল্পী মহলে এখন 'প্রজাপতির জনক' বলে তাঁকে চেনে অনেকেই। আগে এই প্রজাপতির ভাবনাতেই সকলকে তাক লাগিয়েছিলেন সুতার। এবার সুতারের ভাবনাকে আরও রঙিন করতে হাত লাগিয়েছেন দীনেশ পোদ্দার। কলকাতার নাট্যপাড়ায় অতি পরিচিত নাম দীনেশ পোদ্দার। ইতিমধ্যেই তাঁর আলোকে আলোকিত হয়েছে নাট্য়মঞ্চের বহু ভাবনা। মূর্তি, মণ্ডপের সঙ্গে থিমে ভাবুকতা আনতে রয়েছে আবহ সঙ্গীতের ব্যবস্থা। সেখানেও রয়েছে সেরার সেরাদের আমদানি। জন্ম মুহূর্তকে সুর দিয়েছেন কবীর সুমন। তাই মণ্ডপে ঢোকার মুহূর্ত থেকেই দর্শনার্থীরা আলাদা অনুভূতি পাবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

চারদিকে এখন শুধু কেনাকাটার পালা। ক্যালেন্ডার বলছে,সব মিলিয়ে আর ২২দিন । তারপরই এসে যাবে সেই মহূর্ত। যখন আগমণী সুরে কৈলাস থেকে মা আসবেন মর্তে। ইতিমধ্যেই মা-এর জন্য তাই মণ্ডপ তৈরি করে ফেলেছে পুজো কমিটি। থিমের ভিড়ে গা ভাসালেও কমিটি জানিয়েছে, অন্য়ান্য় পুজো কমিটির থেকে আলাদা তারা। সেই কারণেই প্রতি বছর ভিড় উপচে পড়ে সংঘের মণ্ডপে। কারণ তারা পুজো করেন না, শিল্প গড়েন। এবারও সেই শিল্পের আদলেই তৈরি হয়েছে তাঁদের ভাবনা-
জন্ম জন্ম মৃত্যু রয়েছে অথচ নেই । 
মৃত্যুঞ্জয় হৃদয় ভাসছে অন্তরেই।।