মাস তিনেক আগে ইস্তফা দিয়েছেন খোদ মেয়র। শীর্ষ বদলে রদবদল ঘটেছে।  আর এবার নাম কি তবে নামও বদলাতে চলেছে বিধাননগর পুরসভার? সূত্রের খবর, পুরসভার নাম বদলের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশের জন্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বছর চারেক আগে বিধাননগর পুরসভা, রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা ও মহিষবাথানের পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয় নতুন একটি পুরসভা। নয়া পুরসভার নাম দেওয়া হয় বিধাননগর পুরসভা। মেয়র হন সব্য়সাচী দত্ত, আর ডেপুটি মেয়র একদা সিপিএমের দাপুটে নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়।  কিন্তু লোকসভা ভোটের পর থেকে সব্যসাচীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল তৃণমূল নেতৃত্বের।  প্রথমসারি এই নেতার চালচলন একেবারেই ভাল ঠেকছিল না দলের কাছেই।  এরই মধ্যে আবার সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে হাজির হন দলত্যাগী বিজেপি নেতা মুকুল রায়ও। বিধাননগরের মেয়রকে সতর্ক করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। খোদ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই পরামর্শ তো মানেনইনি, উল্টে 
বিদ্যুৎ ভবনে সরকারী কর্মচারীদের বিক্ষোভে শামিল হয়ে আরও বিপাকে পড়েন বিধাননগরের মেয়র। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন পুরসভার ৩৫ জন কাউন্সিল। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট।  বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় জানান, অনাস্থা চিঠিতে আইন সংক্রান্ত ভুলভ্রান্তি থাকলেও, প্রস্তাবটি বৈধ। শেষপর্যন্ত জুলাই মাসে বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন সব্যসাচী দত্ত।  নতুন মেয়র হয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী।  বিধানসভা পুরসভার রদবদলের প্রক্রিয়া যখন চলছিল, তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরসভার নাম বদলের প্রস্তাব দেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়।

কিন্তু হঠাৎ কেন বিধাননগর পুরসভার নাম বদলের প্রস্তাব দিলেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়? রাজারহাট অঞ্চলের একদা দাপুটে সিপিএম নেতার বক্তব্য, 'রাজারহাট-গোপালপুরের ৪০০ বছরের ইতিহাসের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী নাম বদলের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। শুধু বিধাননগর নামে রাজারহাটের পরিচয় উপেক্ষিত হচ্ছে।'  প্রসঙ্গত, আগে রাজারহাট-গোপালপুর নামে আলাদা একটি পুরসভা ছিল। সেই পুরসভার চেয়ারম্য়ান ছিল তৎকালীন সিপিএম নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়। পরে ওই পুরসভারটি বিধাননগর পুরসভার সঙ্গে জুড়ে দেয় রাজ্য সরকার।