রাজ্য়ের করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে নতুন উদ্য়োগ নিল রাজ্য় নিয়ুক্ত করোনা সংক্রান্ত কমিটি। এবার থেকে করোনা পরীক্ষায় আনা হল নয়া পরিবর্তন।  নতুন নির্দেশিকা অনুসারে কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা কারও উপসর্গ থাক বা না থাক তাঁর করোনা পরীক্ষা করা আবশ্য়িক।  সেই সঙ্গে স্পর্শকাতর এলাকাতেও স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ অনুসারে লালারসের নমুনা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় কেবল কোভিড আক্রান্তের সরাসরি সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি যাদের দেহে করোনার উপসর্গ দেখা গিয়েছে, তাদেরই পরীক্ষা করতে  বলা হয়েছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় উপসর্গহীন ব্যক্তিদেরও পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য়ভবন সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রে 

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রাজ্য়ে করোনা পরিস্থিতির কথা বিচার করেই বৃহস্পতিবার নতুন এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে,প্রাথমিকভাবে রোগীর  শরীরে কোভিডের উপসর্গ না থাকলেও পরে লালারস পরীক্ষায় ভাইরাস ধরা পড়ছে। তাই আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য় সরকার নিয়ুক্ত করোনা সংক্রান্ত কমিটি।  

যদিও এর মধ্য়েও মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের রাজনীতি দেখছে বিজেপি। ইতিমধ্য়েই বিষয়টি নিয়ে টুইট করেছেন দলের সর্বভারতীয় আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। টুইটে তিনি লিখেছেন, রাজ্য়ের করোনা সংক্রান্ত নতুন নির্দেসিকার মাধ্য়মে আসলে চিকিৎসকদের অধিকার খর্ব করলে মমতার সরকার। এবার থেকে একজন কোভিড রোগীর চিকিৎসারত একজন  যোগ্য় চিকিৎসক তার লালারস পরীক্ষার বিষয়ে বলতে পারবেন না। এমনকী মারা গেলে তাঁর মৃত্যুর কারণও দর্শাতে পারবেন না। যোগ্য চিকিৎসকের পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসন বা কোনও কমিটি সেই সিদ্ধান্ত নেবে।
 
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের বুলেটিন বলছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজ্য়ে ২৩১ জন করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। যদিও খুশির খবর, সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪২ জন। এখনও পর্যন্ত  রাজ্য়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৭।
 
যদিও এই হিসেবের সঙ্গে মলিছে না রাজ্য় সরকারের হিসেব। নতুন করে রাজ্য়ে আরও ২৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যার জরে  বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৪৪। তবে রাজ্য়ের হিসেবে বেড়েছে করোনায় মৃতের সংখ্যা । সাত থেকে এখন তা ১০। এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।

রাজ্যে বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৪৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে। একইসঙ্গে করোনা সংক্রমণ-মুক্ত হয়েছেন আরও ৯ জন। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ৫১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। করোনা রুখতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব।