রাহুল ঘোষের মাধ্যমেই কি মুকুল রায় ঘুষের টাকা নিয়েছিলেন? হাইকোর্টে শুনানিতে অন্তত সেরকমই তথ্য দিলেন সরকারি কৌঁসুলি। তবে রেলের কমিটিতে সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতির মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুকুল রায়কে গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ১৪ জানুয়ারি। ফলে রাজ্যের উচ্চ ন্যায়ালয় থেকে আরও খানিকটা স্বস্তি মিলেছে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের। তবে, তদন্তের জন্য  মুকুল রায়কে থানায় ডাকতে হলে ৭২ ঘন্টা আগে পুলিশকে নোটিশ দেওয়ার শর্ত বহাল রেখেছে আদালত। 

এদিন মামলার শুনানি হয় বিচারপতি শইদুল্লা মুন্সি এবং বিচারপতি শুভাশিস দাশগুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত  না থাকায় পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) শাশ্বত গোপাল মুখোপাধ্যায় শুনানি পিছনোর আবেদন  জানান। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়, মামলার বর্তমান পরিস্থিতি কি । জবাবে পিপি জানান, রাহুল ঘোষ নামে আরও এক অভিযুক্তকে এই কেসে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যে টাকা মুকুল রায় নিয়েছিলেন, তা  রাহুলের ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্টের মাধ্যমেই মুকুলের কাছে পৌঁছেছিল বলে অভিযোগ। রাহুলকে পুলিশ এখন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এছাড়া, এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং ঝাড়খণ্ডের কিছু মানুষের সঙ্গেও যোগ রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ। তদন্ত এখন চলছে। তাই কিছুটা সময় লাগবে। 

রেলবোর্ডের কমিটিতে সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি মামলায় মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ধাপে ধাপে কয়েক লক্ষ টাকা সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় নামে সরশুনার এক ব্যক্তির থেকে নিয়েছিলেন মুকুলবাবু। রাজ্য বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বাবান ঘোষ, মুকুল রায় সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ জানান সরশুনার ওই ব্যক্তি। পুলিশ বাবান সহ  দুজনকে প্রথমে গ্রেফতার করেছিল। মুকুল গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান।