মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে আজও সম্ভবত যাচ্ছেন না জুনিয়র ডাক্তাররা। গত চার দিন ধরে রাজ্যে চিকিৎসা পরিষেবায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারিতে উল্টে হিতে-বিপরীত অবস্থার ইঙ্গিত মিলছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এগিয়ে এসেছেন পাঁচ প্রবীণ চিকিৎসক। এঁরা হলেন প্লাবন মুখোপাধ্যায়, সুকুমার মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ চৌধুরী, মাখনলাল সাহা এবং অমলেন্দু ঘোষ। গতকাল সন্ধে থেকে নবান্নে এই পাঁচ প্রবীণ চিকিৎসকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিনিধি দলেরও থাকার কথা ছিল। কিন্তু, রাত ৯টা পেরিয়ে গেলেও কেউ আসেনি। ফলে, প্রথম মধ্যস্থতাকারী বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়। 

আরও পড়ুন-শক্ত হাতে রাশ ধরুক সরকার, চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ালেন সন্দেশখালির আক্রান্ত বিডিও

নবান্ন থেকে বেরিয়ে প্রবীণ চিকিৎসক সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানান, আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা মুখোমুখি বসানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের বিশ্বাস মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমে কোনও না কোনও সমাধান সূত্র বের হবে। পাঁচ প্রবীণ চিকিৎসকের-ই মতে চিকিৎসাক্ষেত্রে একটা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এটার আশু সমাধান হওয়াটা জরুরি। এখানে কোনও পক্ষের হয়েই তারা কাজ করছেন না। তাঁদের মতে, দুই পক্ষ মুখোমুখি বসে মিমাংসার পথ খুজুক। এই মুখোমুখি বসানোর সেঁতু বন্ধনের কাজটা তাঁরা করছেন বলেও জানান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। 

এই পাঁচ প্রবীণ চিকিৎসকের বার্তা নিয়ে শনিবার বিকেলে এনআরএস হাসপাতালেও গিয়েছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র। কিন্তু, তাতেও জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান থেকে নড়ানো যায়নি। শেষমেশ শনিবার বিকেল ৫টায় ফের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন সুকুমার মুখোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমি আমার স্নেহের ছাত্রদের এখনও বলছি, নবান্নে এসে তোমরা আলোচনা কর। সমস্যা মিটিয়ে নাও। সঙ্কট বাড়িয়ো না। প্রশাসনকেও উদ্যোগী হতে বলেছি। আশা করছি সকলের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।' 

আরও পড়ুন-রাজ্যে পাঁচশো চিকিৎসকের গণ ইস্তফা, শুধু এসএসকেএমেই ১৭৫, দেখুন ভিডিও

বিশেষ সূত্রে যা খবর তাতে এনআরএস হাসপাতালে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা কোনওভাবেই অবস্থান থেকে নড়বেন না। গতকাল বিকেল থেকে দফায় দফায় বৈঠক হয়। তাতে একটাই কথা বারবার উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএস-এ এসে প্রকাশ্যে তাঁর বিবৃতির জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। সেইসঙ্গে যে জুনিয়র ডাক্তাররা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে যে শর্ত রেখেছে তাও মানার কথা ঘোষণা করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, মমতার কঠোর অবস্থানের বিপক্ষেই আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দল। এমনকী, শনিবার বিকেল পাঁচটায় নবান্নে বৈঠকে যোগ না দেওয়ার ব্যাপারেই অনড় সকলে। সুতরাং, মধ্যস্থতাকারী ৫ প্রবীণ চিকিৎসক কোনও মিরাকল ঘটাতে না পারলে এদিনের বৈঠকও ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা। 

আরও পড়ুন-মমতার আচরণকে কটাক্ষ, ডাক্তারদের কাজে ফেরার আবেদন দিলীপের, দেখুন ভিডিও

চিকিৎসামহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ মুখ্যমন্ত্রী এনআরএস-এ না গিয়ে কী করতে এসএসকেএম-এ গেলেন? কারণ, জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের মূল স্থল এনআরএস। এখান থেকেই প্রতিবাদটা সর্বজনিন হয়েছে। এমনকী, চিকিৎসক মহলের একাংশ ইতিমধ্য-ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে এনআরএস-এ যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সূত্রের খবর, চিকিৎসকরা অনড় অবস্থান থেকে একটু নমনীয় হলেই মুখ্যমন্ত্রী এনআরএস-এ চলে যেতে পারেন। কিন্তু, তার আগে একটা সমাধানের পত্রে এগোতে হবে সররকার ও জুনিয়র ডাক্তারদের।