দুর্গোপুজোয় দখলদারিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজ্য। এবার কালীপুজোকে কেন্দ্র করেও সরাসরি সংঘাতে নামল বিজেপি-তৃণমূল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে কালীপুজো কার হাতে যাবে তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন খোদ রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল দুর্গাপুজোর হাত ধরে। বেহালার সংঘশ্রীর পুজোয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে আনতে চেয়েছিল পুজো কমিটি। পুজো কমিটির গেরুয়াকরণের পর মাথায় বসানো হয়েছিল বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুকে। কিন্তু কালীঘাটের কানে খবর পৌঁছতেই তড়িঘড়ি পরিবর্তন হয় সবকিছুর। ভেঙে দেওয়া হয় কমিটি। পরে গেরুয়া কমিটিতে সবুজায়ন হতেই বাদ পড়ে যায় অমিত শাহের দুর্গাপুজো উদ্বোধনের বিষয়। দুর্গাপুজোর পর এবার কালীপুজোকে কেন্দ্র করেও শুরু হয়েছে সেই তরজা। এবার স্থান রাজারহাটের নারায়ণপুর।

বিজেপির অভিযোগ, এখানে একটি মহিলা পরিচালিত কালীপুজো কমিটিতে বাগড়া দিচ্ছে তৃণমূল। বিজেপির লোকজনকে এই পুজোয় ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাপস চ্যাটার্জি। যা নিয়ে এদিন মুখ খুলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ  ঘোষ। তিনি বলেন, একটা মহিলা পরিচালিত  কালীপুজোয় তাপস চ্যাটার্জিকে সভাপতি করার কথা বলা হয়েছে। ওখানকার ওসি, আইসিরা নাকি বলেছেন, তাপসবাবুকে পুজো কমিটির মাথা করলেই কালীপুজো করতে দেওয়া হবে। যেহেতু ওখানে অনেক বিজেপির লোকজন রয়েছেন, তাই এই ধরনের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি শুধু বলতে চাই, তাপসবাবু কি মহিলা ?  তাহলে ওনাকে পুজো কমিটিতে নেওয়া হোক। সব জায়গায় মোড়লগিরি করতে দেওয়া যাবে না।    

সূত্রের খবর, বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত বিজেপিতে যোগ দিতেই বদলে গেছে রাজারহাটের রাজনৈতিক চিত্র। একদা সব্য়সাচীর কাছের লোক রাজুও এখন বিজেপিতে। আগে মহিলারা চালালেও ওই পুজোর দায়িত্বে ছিল রাজু। বর্তমানে রাজুর গেরুয়াকরণ হওয়ায় কালীপুজোতেও বিজেপির হাওয়া লেগেছে। আগেভাগেই যা বন্ধ করতে নেমেছে তৃণমূল। যদিও এলাকার তৃণমূলের নেতারা জানান, একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই।