কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্ররোচনাতেই ক্যাম্পাসে হুলুস্থুলু অবস্থা হযেছে। এবার বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।

আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। জয়প্রকাশ মজুমদারের সঙ্গে যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের কেরছিলেন তিনি। এভার পাল্টা সেই পথেই হাঁটল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ,তাঁর প্ররোচনাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যাদবপুরের বিশ্ববিদ্যালয় ক্য়াম্পাস। যার জেরে পরে এবিভিপির তরফে হামলা চালানো হয় ছাত্রসংসদের ঘরে। 

জুটা-র পথেই হাঁটল ছাত্রছাত্রীরা। যাদবপুর ধুন্ধুমার কাণ্ডে মন্ত্রীর প্ররোচনাকেই দায়ী করেছিল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষক সংগঠনের তরফে বলা হয়েছিল মন্ত্রীর আচরণ ও প্ররোচনামূলক কথাবার্তার জন্যই ক্যাম্পাসের এই পরিস্থিতি হয়। এমনকী যে ভাষায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপাচার্যকে আক্রমণ করেছেন তাও চোখে লেগেছে সবার। বাবুলের বক্তব্যে শুধু উপাচার্য নন সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় অপমানিত বোধ করেছে। ঘটনাক্রমে যাদবপুর থানাায অভিযোগে সেই একই সুর শোনা গেল ছাত্রছাত্রীদের গলাতেও।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ করেছেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। পাল্টা সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাবুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে যৌন উত্তেজনাকর মন্তব্যের অভিযোগ করেছেন রায়গঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ। সেলিমের দাবি, যাদবপুর ধুন্ধুমার কাণ্ডে ছাত্রীদের অশালীন ইঙ্গিত করেছেন বাবুল। কেন ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে ছোট জামা প্যান্ট পরে এসেছে তা নিয়েও প্রশ্ন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ক্যাম্পাসে তারা কী করতে আসে, তাও ছাত্রীদের প্রশ্ন করে বাবুল। এখানেই থেমে থাকেননি আসানসোলের সাংসদ। এক ছাত্রীকে ঘরে ডাকেন বাবুল। সেখানে গেলে সেই ছাত্রী নিজেকে চিনতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

যদিও সেলিমের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাবুল। তিনি বলেন, যা হয়েছে তা হাজার হাজার মোবাইল ক্যামেরার সামনে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আমি কোন ঘরে ছাত্রীদের নিয়ে যেতে চেয়েছি জানতে পারলে ভালো হত। তবে এই  বলেই থেমে থাকেননি বিজেপির এই সাংসদ। বাবুল বলেন, নিজের বক্তব্যের যদি প্রমাণ দিতে না পারেন তা হলে সেলিমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন তিনি। 

এবিভিপির নবীন বরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। প্রথম থেকেই বাবুলকে বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, গো-ব্যাক স্লোগানের মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধাক্কা মারে ছাত্ররা। এমনকী তাঁর চুল ধরেও টানা হয়। এরপরই ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল ভবনে ফোন করেন বাবুল। পরে খোঁজ নিয়ে বিকেল ৪টে ১৫ তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে ফোন করেন রাজ্যপাল। দ্রুত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হেনস্থার রিপোর্ট চেয়ে পাঠান তিনি। ক্য়াম্পাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেনস্থার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।