তাপস পালের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই সরাসরি দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাবেরই বলি হয়েছেন তাপস। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপের ফলে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েই তাপস পালের মৃত্যু হয়েছে বলে এ দিন সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। 

মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা। বাম- কংগ্রেসের অভিযোগ, তাপস পালের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করে আসলে 'বিকৃত মানসিকতার' পরিচয় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

আরও পড়়ুন- রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন, গান স্যালুট দেওয়া হল সাহেব-কে

আরও পড়ুন- 'আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকার দায়ী', বিস্ফোরক অভিযোগ কুণাল ঘোষের

সিপিএম বিধায়ক এবং বাম পরিষদীয় দলনেতার মতে, 'শোকের সময় শবদেহ পিছনে রেখে রাজনীতির ভাষণ যাঁরা দেন, তাঁরা অন্যায় করেন। তৃণমূলের সঙ্গে এসেই বরং বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তৃণমূলের সাহচর্য ছাড়া তো রোজভ্যালি তে তাপস জড়াননি।  জনপ্রিয়তা ভাঙানোর জন্য তাঁকে রাজনীতিতে এনেছিল তৃণমূল। তাহলে তাঁকে যখন সিবিআই গ্রেফতার করল তখন কেন ধরনায় বসলেন না মুখ্যমন্ত্রী?রাজীব কুমারের জন্য যেটা করা গেল সেটা তাপস পালের জন্য করা গেল না কেন?'

কংগ্রেস নেতা এবং রাজ্য়সভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, 'মৃতদেহ সামনে রেখে কারও উচিত নয় রাজনীতি করা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এটা নিশ্চয়ই জানা উচিত। মাঠে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলুন, তাতে কিছু বলার নেই। কিন্তু এটা  বিকৃত ভাবনা ছাড়া আর কিছু নয়।'

মমতার এই অভিযোগের পাল্টা তাঁকে বিঁধতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারাও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় কটাক্ষ করে বলেন, সিবিআই-এর হাতে হেফাজতে থাকাকালীন হাসপাতালে দলের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে গেলেও পাশের ঘরে থাকা তাপস পালকে দেখতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। এই উপেক্ষাই তাপস পাল মেনে নিতে পারেননি বলেও অভিযোগ করেন আসানসোলের বিজেপি সাংসদ।