অভিযোগ গুরুতর। যে একশো দিনের প্রকল্প তৈরি হয়েছিল ইউপিএ সরকারের আমলে, তার মূল উদ্দেশ্য়ই ছিল গ্রামের মানুষের হাতে কাজ জোগানো। অথচ, রাস্তা তৈরির জন্য় সেই একশো দিনের কাজে ব্য়বহার করা হচ্ছে কিনা জেসিবি মেশিন! পুরুলিয়ার বাগমুন্ডিতে বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগই উঠল।

দুবছর আগে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই বাগমুন্ডি গিয়েছিল বিজেপির দখলে। সম্প্রতি এই পঞ্চায়েতের অধীন পাথরডি গ্রামের মাছুয়ার পাড়ায় একটি রাস্তা তৈরির কাজকে ঘিরে তৃণমূল বনাম বিজেপির সংঘাত বাধে। রাস্তা তৈরির কাজে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে বিজেপি। আর কার্যত তখনই প্রকাশ্য়ে আসে পুরো ঘটনা। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল পাল্টা অভিযোগ তুলে বলে, একশো দিনের কাজের প্রকল্পে ওই রাস্তা তৈরি হচ্ছে। অথচ তার জন্য় ব্য়বহার করা হচ্ছে জেসিবি মেশিন। মানুষ কাজ পাচ্ছে না। এলাকার তৃণমূলকর্মী নিকুঞ্জ মাজি অভিযোগ করেন, "বেআইনিভাবে রাতের অন্ধকারে জেসিবি মেশিন দিয়ে চলছে রাস্তা তৈরির কাজ।"

অভিযোগ গুরুতর বুঝে আসরে নামে বিজেপিও। বিজেপির তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে বাগমুন্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি  কার্তিক চালক বলেন, "অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্য়ে। গ্রামে জেসিবি মেশিন একবার ঢুকেছিল বটে। কিন্তু তা আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে। রাস্তা তৈরিতে কোথাও জেসিবি ব্য়বহার করা হচ্ছে না।"

এই রাস্তাটির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩, ৪৯,৮৫৭ টাকা। কিছুদিন আগেই জেলা শাসক নিজে গিয়ে এই রাস্তার শিল্যান্যাস করেন। এদিকে রাস্তা তৈরিতে জেসিবি ব্য়বহার করার অভিযোগ নিয়ে বাগমুন্ডির বিডিওর কাছে দরবার করেছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকেও জানানো হয়েছে বিষয়টি।  তৃণমূল বনাম বিজেপির তরজায় কার্যত লাটে উঠেছে রাস্তা তৈরির কাজ। খানাখন্দ ভরা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে যার খেসারত দিতে হচ্ছে গ্রামের মানুষকেই।