সল্টলেকে সেন্ট্রাল পার্ক মেলার মাঠের একদিকে যখন তাঁদের অনশন চলছে, তখন উল্টোদিকে খাদ্যমেলার আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার 'আহারে বাংলা'-এর গেটে বাইরে হাতে থালা নিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন পার্শ্বশিক্ষকরা।  এদিকে বেতন কাঠামোর চালুর দাবিতে অনশন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই জন আন্দোলনকারী। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

বেতন কাঠামো চালুর দাবিতে সল্টলেকে প্রথমে ধরনায় বসেছিলেন রাজ্যের কয়েক হাজার পার্শ্বশিক্ষক। শনিবার থেকে সেন্ট্রাল পার্ক মেলার মাঠের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার পাশ্বশিক্ষকদের অনশন চতুর্থ দিনে পড়ল।  সোমবার রাতে ইদ্রিস আলি নামে একজন আর মঙ্গলবার সকালে আব্দুল ওয়াহাব নামে আরও একজন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন।  দু'জনকেই ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। বস্তুত, মঙ্গলবার বেলা যত গড়িয়েছে, অসুস্থের সংখ্যাও ততই বেড়েছে।  এখনও পর্যন্ত ৬ অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে।  তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে।  এই যখন পরিস্থিতি, তখন পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন মঞ্চের ঠিক উল্টো দিকেই খাদ্যমেলা 'আহারে বাংলা'-এর আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। 

এদিকে আবার পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি কৌশিক চন্দের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সল্টলেকে বিকাশভবনের সামনে ও সেন্ট্রাল পার্কে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবেন পার্শ্বশিক্ষকরা।  তবে সেন্ট্রাল পার্কে গেট যাতে খোলা থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে পুলিশকে, সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও।

আন্দোলনকারী পার্শ্বশিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি।  গত শনিবার সল্টলেকে অনশনমঞ্চে হাজির হন দলের রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষ।  তাঁর অভিযোগ, পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন থেকে কাটমানি খাচ্ছে রাজ্য সরকার।  দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, আন্দোলন করার জন্য পার্শ্বশিক্ষকদের আদালতে যেতে হচ্ছে। এ রাজ্যে কোনও গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। উল্লেখ্য, সল্টেলেকে বিকাশভবনের কাছে ধরনায় বসায় পার্শ্বশিক্ষকদের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে রাজ্য সরকার। মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, তবে পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।