ফের রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে চাপানউতর শুরু রাজ্য়ের। এবার সরাসরি রাজ্যপালের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সংঘাতে নামল রাজ্য। সৌজন্যে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।  

কিছুতেই ইতি পড়ছে না রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতে। বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হল রাজ্যপালের মন্তব্যের পর। এদিন জগদীপ ধনখড়ের মন্তব্যের বিরোধিতা করে শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের রাজ্যপাল প্রতিদিনই রাজ্যের সাংবিধানিক পদে থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করে সীমারেখা লঙ্ঘন করছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন নিয়ে মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অভিসন্ধিমূলক। তিনি রাজনৈতিক মন্তব্য করে সাংবিধানিক পদকে লঙ্ঘন করছেন। আমরা বলতে চাই তিনি যেন সীমারেখা লঙ্ঘন না করেন। 

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি তৃণমূলের মহাসচিব। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদের ঘটনা একটি পারিবারিক ঘটনা। এই নিয়ে এত অপপ্রচার কেন? সেখানেও রাজ্যপাল মন্তব্য করছেন। মুর্শিদাবাদের ঘটনা বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। রাজ্যপালকে মঞ্চে নামানো হয়েছে। সেটাকে মানুষ মেনে নেবে না। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানো হচ্ছে। 

প্রসঙ্গত, এদিনই ফুটবলার পিকে ব্যানার্জির বাড়িতে মুর্শিদাবাদের শিক্ষক পরিবার হত্য়া নিয়ে মন্তব্য করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন,আমি আজ একটি খুব গুরুতর সমস্যার কথা শুনলাম । আমি গভীর বেদনার সাথে বলছি ,আমার হৃদয় থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আমার চোখে জল চলে এসেছে। মুর্শিদাবাদে যা ঘটেছে তা একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড, মানবতাকে লজ্জিত করে।  একজন শিক্ষক ও তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্য়া একটা বর্বর ঘটনা। আট বছরের একটি শিশু পর্যন্ত মারা গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও তরফের থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে বাস করছি, এটা তারই প্রতিফলন।  আমি কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অনুরোধ করব।

সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে শিক্ষক ও তাঁর পরিবার খুনে ক্রমেই দানা বাঁধছে রহস্য। ২দিন কেটে গেলেও এখনও খুনের কিনাড়া হয়নি কিছুই। দশমীর দিনে দুপুরে জিয়াগঞ্জের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রকাশ পাল তাঁর স্ত্রী বিউটি ও ৬ বছরেরে ছেলের নিথর দেহ। সম্প্রতি ওই শিক্ষক তাঁদের কর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। এই খুন নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র।