করোনা আতঙ্কেই কি ঘটল বিপর্যয়? বাবা-মা ও ছেলের মৃত্যুতে ঘনাচ্ছে রহস্য। সকালে বাড়িতে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ ও হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: রাজকীয় পুজো নয়, আমফানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার পাশে দাঁড়ানোর আর্জি সুজিতের

বাবা-মা ও ছেলের অভাবের সংসার। বাড়িতে ইলেকট্রিক পর্যন্ত ছিল না। ঠাকুরপুকুর থানার সত্যনারায়ণ পল্লিতে থাকতেন গোবিন্দ কর্মকার, তাঁর স্ত্রী রুনু ও একমাত্র ছেলে দেবাশিষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘড়ি সারানোর কাজ করে সামান্য যা রোজগার করতেন ওই বৃদ্ধ, তা দিয়ে কোনওমতে দিন কাটত তিনজনের। বছর পঞ্চাশের দেবাশিষ কোনও কাজকর্ম করতেন না।রবিবার সকালে রাস্তায় আচমকাই মাথা ঘুরে পড়ে যান গোবিন্দ কর্মকার। এরপর কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা উদ্ধার করে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

প্রতিবেশীদের দাবি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ ছিল, ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন পুলিশকর্মীরা। বলা হয়, তাঁরাও সঙ্গে যাবেন। কিন্তু সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে শেষপর্যন্ত বিপাকে পড়তে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের!  অভিযোগ, গোবিন্দ কর্মকারকে যখন বেহালার বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সেখানে কোনও পুলিশকর্মী ছিলেন না। এখানেই শেষ নয়। ভর্তি নেওয়া তো দূর, করোনা সন্দেহে রোগীকে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে রেফার করে দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত আরও বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল ঘুরে শেষপর্যন্ত ওই বৃদ্ধকে ফিরিয়ে আনা হয় বাড়িতে। পরিবারের সকলের খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা করেন প্রতিবেশীরাও। এপর্যন্ত সবই ঠিকঠাকই ছিল।

আরও পড়ুন: বিকেলের দিকে ফের ধেয়ে আসছে ঝড়, গভীর নিম্নচাপের জেরে সপ্তাহভর চলবে বৃষ্টি

মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে গোবিন্দ কর্মকার, তাঁর স্ত্রী রুনু ও ছেলে দেবাশিস মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা। ঘরের মেঝেতে লেখা ছিল, 'আমরা তিনজনেই মৃত'! অন্তত তেমনই দাবি প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁরা জানিয়েছে, ঘাটের ওপর একটি বাটিও ছিল। তাতে লেখা ছিল, 'বিষ আছে সাবধান।' ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।  মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।  কেন এমনটা ঘটল? স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, করোনা আতঙ্কে সপরিবারে আত্মহত্যা করেছেন গোবিন্দ কর্মকার। তাঁদের আক্ষেপ, পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি তৎপর হত, তাহলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেত। সেক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটত না। তবে সপরিবারের আত্মহত্যা নয়, বরং স্ত্রী ও ছেলে-কে বিষ খাইয়ে ওই বৃদ্ধা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান পুলিশের।