পঞ্চসায়র ধর্ষণকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত উত্তম রামকে। কীভাবে হাতে আসল উত্তমের সূত্র। তদন্তে নেমে একপ্রকার অসাধ্য সাধন করেছে কলকাতা পুলিশ। নম্বর প্লেট না জেনে ৫ হাজার ট্য়ক্সির মধ্যে খুঁজে বার করা হয়েছে ট্য়াক্সি সহ অভিযুক্তকে। 

নির্যাতিতার বয়ানে ফিরোজের নাম শুনেও সিদ্ধান্ত নেয়নি পুলিশ।  অভিযুক্তকে ধরতে শুরু হয় সিসিটিভি ফুটেজ দেখার কাজ। প্রথমে পিয়ারলেসের সামনে ট্য়াক্সিতে ওই মহিলাকে তোলার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। কিন্তু ট্য়াক্সিতে উঠতে দেখলেও নীল-সাদা ট্য়াক্সির নম্বর প্লেট সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়নি পুলিশ। যোগাযোগ করা হয় পুলিশের বসানো সিসিটিভি ছাড়াও বেসরকারি সংস্থার সিসিটিভির মালিকদের সঙ্গে। সেখানকার  ফুটেজেও নোা রিফিউজাল নীল সাদা ট্যাক্সি ছাড়া অন্য কিছু সূত্র পায়নি পুলিশ।

এরপরই কলকাতার  নো রিফিউজাল লেখা ট্য়াক্সির খোঁজ শুরু হয়। জানা যায়, সারা শহরে এরকম নীল সাদা ৫ হাজার ট্যাক্সি রয়েছে। যাদের মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট ট্য়াক্সি খোঁজা খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার সমান। সেটা উপলব্ধি করে আরও ভালো করে ট্য়াক্সি দেখা শুরু করেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। দেখা যায়, বাঁ দিকে ট্য়াক্সির চাকার ওপর কিছুটা জায়গা তুবড়ে রয়েছে। হাতলের নীচেই নীল কালি  দিয়ে লেখা এসি ট্যাক্সি,নো রিফিউজাল। এই সূত্র ধরে শহরের সব ট্য়ক্সির আদল পর্যবেক্ষণে রাখে পুলিশ । 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে সোনারপুরে কাছে কাটিপোতায় মহিলাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় অভিযুক্ত। পুলিশের সন্দেহ হয়, কাছেই বাড়ি রয়েছে এরকম কোনও নীলসাদা ট্য়ক্সির চালকই ধর্ষণের কাজ করেছে। এরপরই গোয়েন্দা লাগিয়ে এলাকায় ট্য়ক্সি চালকদের ওপর নজর রাখে পুলিশ। অন্য়দিকে বাঁ দিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন ৭০টি ট্য়াক্সির খোঁজ পায় পুলিশ। পরে কাটিপোতা থেকেই মেলে ট্যাক্সি সহ অভিযুক্ত উত্তম রাম।

যদিও পুলিশি জেরায় উত্তম জানায়, সেই রাতে নেশায় বুদ ছিল  সে। তাই ঠিক কী হয়েছে সেটা তাঁর মনে  নেই। যদিও পুলিশের ধমকানির পর সে জানায়, ওই মহিলা বৃদ্ধাশ্রমে যাবেন বলে গাড়িতে ওঠেন। যদিও বার বার  জিজ্ঞাসা করা হলেও বৃদ্ধাশ্রমের নাম বলতে পারেননি তিনি। কাটিপোতার  কাছে একটি আশ্রমে নামতে বললে আরও গাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। সেই সময় মহিলার সঙ্গে বচসা হয় তাঁর। নেশার ঘোরে মহিলাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে দেয় সে। ধাক্কায় মহিলার নাকে ও দুই হাঁটুতে চোট লাগে। সেখান থেকেই কাপড়ে রক্ত  লেগে যায়। 

পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে, গত সোমবার হোম থেকে রাত সাড়ে দশটার সময় রাস্তায় বেরোন ওই মহিলা। প্রথমে ২০৬ বাসস্ট্য়ান্ডের কাছে যান তিনি। পরে ফের নিজের হোমের কাছে চলে আসেন। এরপরই বেহালায় নিজের বাড়িতে যেতে চেয়ে রাস্তায় গাড়ি থামান নির্যাতিতা। প্রথমে গাড়িতে তুলেও পিয়ারলেস হাসপাতালের সামনে ওই মহিলাকে ছেড়ে দেন একজন। মহিলা মানসিক রোগী বুঝতে পেরেই ওই কাজ করেন তিনি। এরপরই হোমের ফেরার জন্য গাড়িগুলিকে হাত দেখান নির্যাতিতা। সেই সময় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলাকে দেখতে পায় অভিযুক্ত রাম। মহিলাকে গাড়িতে তুলে সোনারপুরের কাটিপাড়ার দিকে নিয়ে যায় সে। নির্যাতনের পর সোনারপুরেই গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয় নির্যাতিতাকে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রক্তাক্ত অবস্থায় কীর্তন যাত্রায় হাঁটতে শুরু করেন ওই মহিলা। রক্তে শাড়ি  ভিজে গেছে দেখে নরেন্দ্রপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। সোনারপুরে হাসপাতালে চিকিৎসার  পর স্থানীয় একটি হোমে রাখা হয় তাঁকে। কিন্তু সেখান থেকেও ভোর চারটের সময় পালিয়ে  যান ওই মহিলা। সোনারপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে পৌঁছে যান তাঁর মামির বাড়ি। সেখান থেকেই যাবতীয় খবর পায়  পুলিশ।