মহানগরীর বুকে দাপটের সঙ্গে চলছে "সাট্টা" ব্যবসা। টাকা জেতার জন্য এই নেশা ঘর ভেঙেছে অনেকেরই। বহু যুগ আগে থেকেই এই খেলা বর্তমানে পরিণত হয়েছে তীব্র নেশায়। মহাভারতের পাশা খেলা থেকে শুরু করে বর্তমানে এই খেলা রাস্তার পাশে অথবা রেললাইনের ধার ঘেঁষে জনসমক্ষেই চলতে থাকে। শুধুমাত্র যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলেছে এই খেলার নিয়ম বা ধরন। কলকাতার বাজারে এর চাহিদা ছোটো বড়ো সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছে আজও রাতারাতি আয়ের সবচেয়ে সস্তা উপায়। 
ডিজিটাল মিডিয়ার যুগেও তাই এই খেলা জিডিটালি সাজিয়ে বসেছে নিজেই পসার। নেশার মোহে জড়িয়ে পড়ছে মানুষ। স্বল্প সময়ে বড়োলোক হওয়ার স্বপ্ন এমন ভাবেই চেপে বসেছিল, যে ঊনিশ শতকের দিকে এই সাট্টা বা জুয়ার ব্যবসা রমরমিয়ে উঠেছিল কলকাতার বুকে। জুয়ায় নেশায় লোভের বশে বহু সংসার শেষও হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন- ২৪ অগাস্ট, তিলোত্তমার জন্ম তারিখ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক


এখনও কোনও অংশে এতটুকুও কমেনি, এর প্রতি আগ্রহ। তার টাটকা প্রমান দিচ্ছে গুগল নিজে। গুগলের কলকাতা সম্পর্কে কিছু সার্চ করলেই, তার কি-ওয়ার্ডস-এ দেখা যাচ্ছে এই দৃশ্য।  যেখানে মানুষ কলকাতার সম্পর্কে নয় বরং তার থেকেও বেশি আগ্রহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পেজটি খুঁজতে। গুগলের কি ওয়ার্ড সার্চারের রিপোর্ট অনুযায়ী, "কলকাতা ফটাফট সাট্টা ফটাফট" নামের এই ফেসবুক পেজটি ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ সার্চ করেন, যেখানে কলকাতার ইতিহাস জানতে সার্চ করেন মাত্র ৩৯০ জন।


নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রম দিয়ে সঠিক পথে অর্থ উপার্জন করা থেকে কী "লোভে পাপ, আর পাপে মৃত্যু" তে চলেছে সমাজের ভবিষ্যৎ। অবাক লাগলেও বিষয়টি কপালে ভাঁজ ফেলার মতোই। কোন নেশায় আচ্ছন্ন হচ্ছে সমাজ! কী বা হতে চলেছে কলকাতার ভবিষ্যৎ। যেখানে একটি সাট্টা বা জুয়ার পেজ এত মানুষ খুঁজছেন, সেই নিরিখে কত মানুষ এই মারণ নেশায় আচ্ছন্ন তা বোধহয় ধারণা করা খুব একটা শক্ত বিষয় নয়।