ভোট মিটতেই ধরা পড়েছিল ক্ষতটা। শুরুও হয়ে গিয়েছিল ক্ষত মেরামতির কাজ। আগে ভাগেই নীচুতলার কর্মীদের জন্যে অ্যাডজ হক বোনাস ঘোষণা করেছিল রাজ্যে। এবার তার থেকেও বড় মাস্টারস্ট্রোক মারতে চলেছে রাজ্য সরকার। সব ঠিক থাকলে খুব শিগগির বাড়বে প্রাইমারি শিক্ষকদের মাইনে। 

গত শনিবার বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন , রাজ্য সরকার নীতিগত ভাবে মেনে নিয়েছে প্রাইমারি শিক্ষক শিক্ষিকারা গ্রেড পে কম পান। তাঁদের গ্রেড পে বাড়ান হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে বিশদ জানানো হবে।

প্রসঙ্গত প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা পে ব্যান্ড হিসেবে ৫৪০০ টাকা দিয়ে শুরু করেন। এর মঘ্যে গ্রেড পে থাকে ২৬০০। সব মিলে ১৮ হাজার হাতে নিয়ে জীবন শুরু করেন একজন প্রাইমারি শিক্ষকরা। অথচ অন্য রাজ্যের প্রাইমারির শিক্ষকরা পান প্রায় দশ হাজার টাকা বেশি। এনসিটির নিয়ম মেনে অন্য রাজ্যে গ্রেড পে শুরু হয় ৫৪০০ টাকায়। এই আর্থিক বৈষম্য মেনেই কাজ করে গিয়েছেন শিক্ষকরা। অথচ এনটিসির নিয়ম মেনে উচ্চ মাধ্যমিকে  তাঁদের  ৫০ শতাংশ পেতে হয়েছে। যাদের তা নেই, তাদের ফের দূরশিক্ষায় পরীক্ষা দিয়ে ওই নম্বর পেতেও হয়েছে। নিয়ম মেনে যোগ্যতা অর্জন করতে হয়েছে, কিন্তু নিয়ম মেনে মাইনে  বাড়েনি।

কার্যত এই সব অভিযোগই মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকার। বেতন বাড়ার ইঙ্গিতও মিলছে। কিন্তু প্ৰশ্ন অন্যত্র। বেতন সংক্রান্ত নির্দেশিকা তো এনসিটি জারি করে সেই ২০১৫ সালে। তাহলে চার বছর সময় নিল কেন রাজ্য?  তাহলে কি এই চার বছরের না দেওয়া টাকা শিক্ষকদের প্রাপ্য নয়? অনেকে অবশ্য বলছেন, বিলম্বিত বোধদয়, তবু তো হল।