ক্রমেই বাড়ছে শহরের তাপমাত্রা। তারই মাঝে নাজেহাল জনজীবন। জনশূণ্য চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টার। গরমের জেড়ে শহরের বুকে বাস করা পাখিদের পরিস্থিতিটা ঠিক কেমন তার খোঁজ রাখেন হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন। বেশ কয়েকদিন যাবত বাড়তে থাকা তাপমাত্রার পারদে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

প্রকৃতি ক্রমেই রূপ বদল করছে নিজের খেয়ালে, বিশ্ব জুড়ে উষ্ণতার উর্ধ্বমুখী গ্রাফে ব্যহত হচ্ছে পাখিদের স্বাভাবিক বার্ষিক চক্র। মোটের ওপর ৮ মাসই গরমের কবলে থাকে শহর কলকাতা। ফলেই পাখিদের সুস্বাস্থের কথা ভেবে প্রতিনিয়ত নানান পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন যারা তাদের তালিকায় এবার নাম লেখালেন মিমি চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় টুইট করে সকলের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করলেন বাড়ির বাগান, বারান্দা ও ছাদে প্রতিদিন একবাটি জল রাখার জন্য। যাতে পাখিদের জলের অভাবে সমস্যার মুখে না পড়তে হয়।

গ্রীষ্মের ছবি মানেই কলের মুখে পাখির ঠোঁট, আর সেখান থেকে পড়তে থাকা ফোঁটা ফোঁটা জল। বিষয়টিকে খুঁটিয়ে দেখলে ভেতরের বাস্তবটা অনেকাংশে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেবে। শহরের বুকে গ্রীষ্মের দিনে মুলত যে সমস্যাগুলো প্রকট হয়ে দেখা দেয় তা হলঃ

  • পর্যাপ্ত জলের অভাবঃ শহরের বুকে জল সরবরাহর মূলেই রয়েছে টাইম কল। ফলে পুকুর খাল বিলের অভাব মেলায়, জলের সন্ধানে পাখিদের উড়ে বেড়াতে হয় এপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।
  • স্নানের সমস্যাঃ গরমের দিনে নালা, নর্দমার পাশে কিছুটা জল জমে থাকলেই সেখানে কোনওভাবে গায়ে জল দিয়ে স্বস্তি বোধ করে পাখিরা। জলাশয়ের অভাবেই এই সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেয়।
  • ঠাণ্ডা জায়গার অভাবঃ রোদের তেজ যখন সবথেকে বেশি থাকে তখন কোনও ছাউনির তলায় জায়গা খুঁজতে থাকে পাখিরা। উত্তর কলকাতার বেশ কিছু বাড়ির কার্নিশে বা ঘুলঘুলিতে এখনও বাসা বাঁধতে দেখা যায় পাখিদের। কিন্তু মধ্য ও দক্ষিণ কলকাতায় সেই সুযোগ অনেকাংশে কম।
  • নোংড়া জলই ভরসাঃ নর্দমার নোংড়া জলই বাধ্য হয়ে খেতে হয় পাখিদের। পরিষ্কার জলের সন্ধান মেলা ভার। ফলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে অনেক পাখি। তাই বাড়িতে পরিষ্কার জল খোলা জায়গায় রেখে দিলে নিয়ম মাফিক পাখিরা আসতে শুরু করে সেখানে।
  • খাবারের সমস্যাঃ শহর অঞ্চলে তুলনামূলক গাছের সংখ্যা কম। তাই গাছের ফল মেলে না সহজে। অধিকাংশ পাখিই এখন তাই আর দেখতে পাওয়া যায় না কলকাতার বুকে।

একসময় রাজারহাট, সাঁতরাগাছি, গোলপার্ক অঞ্চলে গরমকালেও পরিযায়ী পাখিদের দেখা মিলত সহজেই। রাজারহাটের সেই জলাজমি এখন কংক্রিটের তৈরি শহর। ফলেই একে একে কলকাতা থেকে মুখ ফিরিয়েছে বিদেশী পাখি। বর্তমানে স্থানীয় যে কয়েকটি প্রজাতীর পাখি আছে তাদের যথা সাধ্য সহযোগিতা করা উচিৎ সকলের। তীব্র গরমের দাপট থেকে তাদেরও মিলবে খানিক স্বস্তি।