রাজ্য়ে ঘূর্ণীঝড় আমফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে  ৯০ কোটির রেশন সামগ্রী। খাদ্য দফতর সূত্রে খবর,  দুর্যোগে শহর ও শহরতলির ৩০০টির মতো রেশন দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দোকানে বৃষ্টির জল ঢুকে বস্তার চাল, চিনি, ময়দা, ছোলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  এমনকি শুক্রবারেও কিছু রেশন দোকান থেকে বৃষ্টির জল বার করা সম্ভব হয়নি।

 খাদ্য দফতর সূত্রের খবর, কলকাতা ও শহরতলি মিলিয়ে ২২৫২টি রেশন দোকান রয়েছে। তার মধ্য়ে শুধু শহরেই রয়েছে ৯৩৪টি।  ঘূর্ণীঝড়ের জেরে  বৃষ্টির জল ঢুকে বিপুল ক্ষতির মুখে ৩০০টির মতো রেশনঘর। লকডাউনে মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া জন্য় মজুত করা  ৯০ কোটির রেশন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্থ। প্রশাসনিক সমস্ত চেষ্টাকে পিছিয়ে দিল ঘূর্ণিঝড় আমফান। রমজান উপলক্ষে রেশন দোকানগুলিতে বেশি পরিমাণে চিনি, ছোলা ও ময়দা মজুত রাখা হয়েছিল। এদিকে সেসব এখন ওলটপালট। শুক্রবার অনেক ডিলার নিজেরাই ভেজা বস্তা থেকে চাল বার করে দোকান চত্বরেই শুকোতে দিয়েছেন।

'অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন'-র সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, ' ঘূর্ণীঝড় আমফানের তাণ্ডবে কলকাতা ও শহরতলি মিলিয়ে ৩০০টি রেশন দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।  বৃষ্টির জল ঢুকে প্রায় ৯০ কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির জলে ভিজে বহু প্রয়োজনীয় নথি এবং খাদ্যসামগ্রী লেনদেনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।' নষ্ট হওয়া খাদ্যসামগ্রী ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র বদলাতে শুক্রবার রাজ্যের খাদ্যসচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন বিশ্বম্ভরবাবু। এ বিষয়ে  খাদ্যসচিব  জানিয়েছেন, 'আমাদের আধিকারিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত রেশন দোকানগুলি পরিদর্শন করছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চয়ই নেওয়া হবে।' খাদ্য দফতর সূত্রের খবর, আমহার্স্ট স্ট্রিট, মুচিপাড়া, বেনিয়াপুকুর, মানিকতলা, বেহালা, জোড়াবাগান, ওয়াটগঞ্জ, মোমিনপুর এলাকার রেশন দোকানগুলির অবস্থা ভয়াবহ। ক্ষতির মুখে বনহুগলি, রিষড়া, বজবজ,শ্রীরামপুর, হাওড়ার বিভিন্ন রেশন দোকানগুলিও।