ফের রাতের কলকাতায় বেপরোয়া গতির জেরে দুর্ঘটনা। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি নাগরিক। শেক্সপিয়র সরণীতে তীব্র গতিতে এসে একটি জাগুয়ার গাড়ি একটি মার্সিডিজ গাড়িতে। মার্সিডিজে ধাক্কা মারার পরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই বাংলাদেশি নাগরিককে ধাক্কা মারে বেপরোয়া জাগুয়ার গাড়িটি। 

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার গভীর রাতে শেক্সপিয়র সরণী ধরে তীব্র গতিতে বিড়লা তারামণ্ডলের দিক থেকে কলামন্দিরের দিকে আসছিল একটি জাগুয়ার গাড়ি। সেই সময় লাউডন স্ট্রিট ধরে পার্ক স্ট্রিট থেকে মিন্টো পার্কের দিকে যাচ্ছিল মার্সিডিজ গাড়িটি। অভিযোগ, লাউডন স্ট্রিট- শেক্সপিয়র সরণী সংযোগস্থলে তীব্র গতিতে মার্সিডিজটিকে ধাক্কা মারে জাগুয়ারটি। 

এতটা জোরে জাগুয়ার মার্সিডিজে ধাক্কা মারে যে দ্বিতীয় গাড়িটি ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশের পুলিশ কিয়স্কের উপরে পড়ে। প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে সেই সময় ওই পুলিশ কিয়স্কের নীচে আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক। মার্সিডিজটির ধাক্কায় আহত হন তাঁরাও। মৃত্যু হয় বাংলাদেশের নাগরিক দুই যুবক- যুবতীর। তাঁদের নাম কাজি মহম্মদ মইনুল আলম এবং ফরহানা ইসলাম তানিয়া। এছাড়াও আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। 

আরও পড়ুন- মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি দুর্ঘটনা! পাঁচিল ভেঙে পুলিশি হেফাজতে সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে

সংঘর্ষের জেরে মার্সিডিজে থাকা তিন আরোহীর অল্প আঘাত লাগে। গাড়ির এয়ার ব্যাগ খুলে যাওয়ায় বেঁচে যান আরোহীরা। যদিও ঘাতক জাগুয়ার গাড়িটির চালক পলাতক। পুলিশের অনুমান, রাতে পুলিশি নজরদারি কম থাকার সুযোগ নিয়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ভেঙে তীব্র গতিতে যেতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে জাগুয়ার গাড়িটির চালক। গাড়ির নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্তের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই অজ্ঞাতপরিচয় চালকের বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, অনিচ্ছাকৃত খুনের মতো ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। 

জানা গিয়েছে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন ওই বাংলাদেশি নাগরিকরা। শুক্রবার রাতে হোটেলে ফেরার পথেই বৃষ্টিতে আটকে যান তাঁরা। তখনই ওই পুলিশ কিয়স্কের নীচে আশ্রয় নেন ওই বাংলাদেশি নাগরিকরা।