নিউটাউনে বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল স্কুলছাত্রী শনিবার গভীর রাতে পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দেয় সে মায়ের অত্যাচারে আত্মহত্য়া করেছে ওই কিশোরী, অভিযোগ ঠাকুমার বিবাহবিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতেন মৃতার মা

ফের শহরের বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা। এবার নিউটাউনের এক বহুতলের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল এক স্কুলছাত্রী। মৃতের বাবা ও ঠাকুমার অভিযোগ, মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছে ওই কিশোরী। নিউটাউন থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মৃতার নাম রুদ্রাণী চক্রবর্তী। নিউটাউনের ডিপিএস স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল বছর ষোলোর ওই কিশোরীরা। নিউটাউনেই একটি বহুতলের মায়ের সঙ্গে থাকত রুদ্রাণী ও তার বোন। জানা গিয়েছে, রুদ্রাণীর বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই দুই মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন রুদ্রাণীর মা। কিন্তু রুদ্রাণীর সঙ্গে মায়ের সম্পর্ক একেবারেই ভালো ছিল না। অন্তত তেমনই দাবি মৃতার ঠাকুমার। তাঁর দাবি, রুদ্রাণীকে উপর রীতিমতো অত্যাচার করতেন তাঁর মা। চলত মারধরও। বেশ কয়েকবার নিউটাউন থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন রুদ্রাণীর বাবা। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। শেষপর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি যখন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, তখন রুদ্রাণীকে বাবার কথা বলতে দেননি তার মা। গভীর রাতে বহুতলের পাঁচতলা থেকে ঝাঁপ দেয় দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। ঘটনাস্থলে মারা যায় সে। খবর পেয়ে ওই বহুতলে যায় নিউটাউন থানার পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

কিশোরী মেয়ে কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল? তা নিয়ে রুদ্রাণী চক্রবর্তীর মায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ওই মহিলার বিরুদ্ধে নিউটাউনে থানায় এফআইআর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মৃতার বাবা ও ঠাকুমা। মাস চারেক আগে কলকাতার জিডি বিড়লা স্কুলের শৌচাগারে আত্মহত্যা করেছিল কৃত্তিকা পাল নামে এক ছাত্রী। সে-ও দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ছিল। ঘটনার শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সুইসাইড নোটে বাবা-মা ও পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছিল কৃত্তিকা। এক্ষেত্রে কি বাবা-মায়ের তিক্ত সম্পর্কের বলি হতে হল রুদ্রাণীকে? উঠছে প্রশ্ন।