মাঝে দীর্ঘ সাত বছরের ব্য়বধান। এখনও তিস্তার জল পায়নি বাংলাদেশ। কিন্তু পুজোর আগে ভারতের সঙ্গে সু সম্পর্ক বজায় রাখতে দূত পাঠালেন হাসিনা। পেট্রাপোল সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে ঢুকল বাংলাদেশের ইলিশ।

ইলিশের রসনা নিয়ে বাঙালির কতকথার শেষ নেই। সর্ষে ভাপা থেকে ইলিশ ভাজা সবেতেই কেমন একটা রসনাতৃপ্তি ভাব। জামাইষষ্ঠী থেকে যেকোনও বাঙালির উৎসবে পদ্মার ইলিশের কদরই আলাদা। কিন্তু দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও বাঙালির পাতে পড়েনি সেই ইলিশ। এবার হাসিনার সৌজন্য়ে সেই ইলিশ পেল ভারত। বাংলাদেশের রূপোলি শস্য এল রাজ্যের হাতে। 

মূলত বাংলাদেশ থেকে ৫০০ টন ইলিশ মাছের প্রথম চালান ঢুকবে পশ্চিমবেঙ্গ । ইতিমধ্যেই ২৪ মেট্রিক টন ইলিশ ঢুকেছে রাজ্যে। বাংলাদেশের বেনাপোল এবং ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ইলিশের প্রথম চালান হিসাবে ২৪ মেট্রিক টন ইলিশ মঙ্গলবার সকালেই ঢুকে পড়বে কলকাতা ও সংলগ্ন বাজারগুলিতে। বাকি ইলিশ আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যে ঢুকবে বলে জানা গিয়েছে। 
ফলে পুজোর মরসুমে বাঙালির পাতে বাংলাদেশের  ইলিশের অভাব ঘুচতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।  জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রা হিসাবে ৫০০ টাকা কেজি দরে এই ইলিশ বিক্রি হবে কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন বাজারগুলিতে। যা ভারতীয় টাকায় কেজি প্রতি  দাম পড়বে ৪৩০ রুপির কিছু বেশি। গত শনিবার ২৪ মেট্রিক টন ইলিশের প্রথম চালান রাজ্যে আসার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যায়।  প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য  ধরা হয়েছে আন্তর্জাতিক দরে ছয় ডলার। যা শুল্ক  মুক্ত সুবিধায় বাংলাদেশি টাকা হিসাবে কেজি প্রতি দাম পড়বে ৫০০ টাকা। কলকাতা ও কলকাতা সংলগ্ন বাজারগুলিতে ইলিশ ব্যাবসায়ীরা এই ইলিশ বিক্রি করবেন ।  জানা গিয়েছে ,দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে এই ইলিশ বাংলাদেশের  শেখ হাসিনা সরকার পশ্চিমবঙ্গবাসীকে উপহার পাঠিয়েছেন।

মূলত কলকাতার বাজারগুলিতেই এই বাংলাদেশি ইলিশ সবথেকে বেশি পাওয়া যাবে। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের পর থেকে ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। তারপর থেকে বৈধভাবে বাংলাদেশের ইলিশ আর পশ্চিমবঙ্গে আসেনি। এদিন ফের বৈধভাবে বাংলাদেশের ইলিশ আসার খবরে স্বভাবতই খুশি এপারের ইলিশপ্রেমী মানুষজন। বাংলাদেশি ইলিশ পশ্চিমবঙ্গে আসায় খুশি খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইলিশের আবেদন জানিয়ে আসছিলাম। এবারে ঠিক পুজোর মরসুমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এপার বাংলার মানুষদের জন্য পুজোর শুভেচ্ছা হিসাবে ৫০০ টন ইলিশ পাঠানোয় তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।