ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার ইউনিট খুলে জালিয়াতিগ্রাহকেদর অ্যাকাউন্ট থেকে হচ্ছে টাকা গায়েবপরিকল্পনা মাফিক চলছে প্রতারণা প্রতারণার পিছনে সংগঠিত চক্র

অ্যাপ ক্যাব বুক করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন শহরের বহু মানুষ। এর পিছনে সংগঠিত চক্র রয়েছে বলেই মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে অ্যাপ ক্যাব বুক করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন গ্রাহকরা। নম্বর ব্লক দেখান হচ্ছে। গুগল অ্যাপে ক্যাব সংস্থার কাস্টমার কেয়ার নম্বর খুঁজে ফোন করলে কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ জানাচ্ছেন, এক সময় ক্যাব পুব করে ক্যানসেল করার কারণে নম্বরটি ব্লক করা হয়েছে। ব্লক খুলতে নির্দিষ্ট টাকা জমা দিলেই ফের চালু হবে অ্যাপ। কিন্তু এগজিকিউটিভের কথা মতো টাকা দেওয়ার পরই শুরু হচ্ছে আসল খেলা। দেখা যাচ্ছে. অ্যাকাউন্টের সমস্ত টাকা কয়েক মিনিটের মধ্যে গায়েব হয়ে যাচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই পদ্ধতিতে কলকাতা ও শহরতলির বহু মানুষের টাকা গত কয়েকদিন গায়েব হয়েছে অ্যাকাউন্ট থেকে। একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছে পুলিশের কাছে। বিধাাননগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানায় জমা পড়েছে অসংখ্য অভিযোগ। নিউটাউন নিবাসী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক দাবি করেন, সম্প্রতি অসুস্থ বাবাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে তিনি অ্যাপ ক্যাব বুক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাপটি ব্লক দেখানোয় গুগল সার্চ করে কাস্টমার কেয়ার নম্বরে ফোন করেন ভদ্রলক। সেখান থএকে জানান হয়, আগে বুকিং ক্যানসেল করায় তাঁকে ৫ টাকা জমা দিতে হবে। কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভের কথা মত এরপর এনি ডেস্ক নামে একটি অ্যাপ ডাউলোড করেন তিনি। এরপর নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রার করে ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস আইডিতে নিজের ডোবিট কার্ড নথিভুক্ত করেন। সেই সময় কার্ড নম্বর ও সিভিভি নম্বরও দেনম তিনি। এর পরেই দুমিনিটের মধ্যেই ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা গায়েব হয়ে যায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে। 

একই ভাবে ভুয়ো অ্যাপ ক্যাব সংস্থার কাস্টমার কেয়ার ফোন করে প্রায় ২০ হাজার টাকা খুইয়েছেন আরও এক গ্রাহক। অ্যাপের ব্লক খুলতে তাঁর কাছেও বাড়িত টাকা চাওয়া হয়। যদিও সেই টাকা অ্যাকাউন্টে ফেরত আসার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেন কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ। তার কথা মত একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে ডেবিট কার্ডের তথ্য দিতেই গায়ের হয়ে যায় অ্যাকাউন্টে রাখা ২০ হাজার টাকা।একই রকম ভাবে প্রতারণার স্বীকার হয়েছেন শহর কলকাতাক এক ব্যবসয়ীও। 

তবে শুধু অ্যাপ ক্যাবের নম্বর নয়, গুগল সার্চে আমাজনের মত নামজাদা সংস্থার কাস্টমার কেয়ারে ফোন করেও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। 

প্রাথমিক ভাবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে সমস্ত কাস্টমার কেয়ার ইউনিটে ফোন করা হয়েছিল, সেগুলো আদৌ ওই সংস্থাগুলির নম্বর নয়। এই নয়া প্রতারণার পিছনে রয়েছে কোনও সংগঠিত চক্র। আর নম্বরগুলি সব ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বর। কোনো চক্র পরিকল্পনা মাফিক ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার নম্বরগুলো সার্চ ইঞ্জিন আপটিমাইজেশনের মাধ্যেম তালিকার উপরের দিকে রাখছে। ফলে গুগলে সার্চ করলে ভুয়ো নম্বরগুলোই আগে আসছে। আর ফোন করে প্রতারিত হতে হচ্ছে আম জনতাকে। 

সাবধানতা নিতে সাইবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনও সংস্থার কাস্টমার কেয়ার নম্বর সেই সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেই সংগ্রহ করা উচিত। তার আগে ওয়েবসাইটি আসল কিনা যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি অজানা অ্যাপ ডাউনলোড করতেও বারণ করছেন সাইবার এক্সপার্টরা। তবে শহরে গজিয়ে ওঠা এই প্রতারণা চক্রের হদিশ এখনও খুঁজে বার করতে পারেননি গোয়েন্দারা।