লন্ডন থেকে ফিরে স্বাস্থ্য় পরীক্ষা না করিয়ে শপিং মলে ঘুরে বেরিয়েছে মা-ছেলে। আইসোলেশনে না গিয়ে নবান্নে কাজ করেছেন ওই আমলা। পরে ছেলের দেহে করোনা ভাইরাস ধরা পড়ায় হুঁশ ফিরেছে তাঁর। যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একজন সরকারি আমলার এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য় তাঁর শাস্তি চেয়েছেন নেটিজেনরা।  

পরিবারে প্রভাবশালী দেখিয়ে সংক্রমণ ছড়াবেন না,রাজ্য়ের আমলাকে সতর্ক করলেন মমতা

জানা গিয়েছে, নবান্নের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন করোনা আক্রান্ত তরুণের মা। নবান্ন ও মহাকরণে তাঁর অফিস হওয়ায় গত দুদিন  বিদেশ থেকে ফিরে ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই সমস্ত কাজ সেরেছেন তিনি। এমনকী গুরুত্বপূ্র্ণ বৈঠকে করেছেন নির্দিষ্ট সময়ে। যার  এখন বিপাকে পড়েছেন তাঁর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা। আতঙ্ক ছড়িয়েছে তাঁদের পরিবারও।

এয়ারপোর্টেই উপসর্গ ফাঁস, পরামর্শ না মেনে শহরে দেদার ঘুরে বেড়ান করোনা আক্রান্ত তরুণ

ইতিমধ্য়েই মহিলার দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট  করেছেন মলয় মুখোপাধ্যায় নামে স্বরাষ্ট্র দফরের এক কর্মী। একই ভয় পাচ্ছেন নবান্নের আরও এক ধপতরের আধিকারিক ইন্দ্রনীল বাগচির স্ত্রী। তাঁর দাবি, নিজের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার জন্য যথাযথ শাস্তি হোক ওই আমলার। এদিকে আমলার এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রীও। এদিন নাম না করে ওই আমলা সম্পর্কে  ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন,বিদেশ থেকে ফিরে আগে স্বাস্থ্য় পরীক্ষা করান। নিজে থেকেই আলাদা থাকুন। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করবেন না। 

মাঝ পথেই বন্ধ শ্যুটিং, ইংল্যান্ড থেকে ফিরতেই ১৪ দিনের আইসোলেশনে মিমি-জিৎ.

বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিআইপি থেকে এলআইপি সকলকেই সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এলে যেতে হবে কোয়ারেন্টাইনে। প্রয়োজনে বাড়িতেও নজরবন্দি হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু অসাবধানতা কিছুতেই তিনি বরদান্ত করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ লুকিয়ে যাওয়া চলবে না। সংক্রমণ রুখতে বিদেশ থেকে ফেরা নাগরিকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

জানা গিয়েছে, বিদেশ থেকে ফিরে নিষেধ অবজ্ঞা করেই নবান্ন-শপিংমল-ক্লাবে ঘুরে বেড়ান করোনায় আক্রান্ত তরুণ।  রবিবার লন্ডন ফেরার পর গত মঙ্গলবার, ১৭ তারিখ, বেলেঘাটা আইডি-তে ধরা পড়ে ওই তরুণের শরীরে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে। তারপরই ওই যুবককে বেলেঘাটা আইডি-র আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে  যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদেরকেও কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিৎসকেরা৷ সংক্রামিত তরুণের মা,বাবা এবং গাড়িচালককে  আইডি হাসপাতালের কোয়েরান্টিনে রাখা হয়েছে৷

 বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ওই তরুণের অবস্থা এখন অনেকটাই ঠিকঠাক। অপরদিকে, পরিবারের লোকেদের লালরসের নমুনা সংগ্রহ করে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের তরফে পুনে নাইসেডে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যার রিপোর্ট আজ বুধবার পাওয়া যাবে। কিন্তু অপরদিকে রীতিমত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই তরুণের আবাসনের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, লন্ডন থেকে ফেরার পর চৃড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করেছেন ওই তরুণ ও তাঁর পরিবার।