স্রেফ নিহতদের পরিবারের পাশেই থাকাই নয়, জঙ্গি হামলার পর  কাশ্মীরে বাংলার শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ নিল নবান্ন।  জানা গিয়েছে, রাজ্যের দুই পদস্থ আমলাদের ভূ-স্বর্গ থেকে শ্রমিকদের বাংলায় ফিরিয়ে আনা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নবান্নের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে কাশ্মীরের প্রশাসনের সঙ্গে। বস্তুত, শুক্রবার রাতেই অনেকে ট্রেনে চাপিয়ে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে খবর। এদিকে  কাশ্মীর থেকে বাড়ি ফেরার পথে শ্রীনগরে সেনা ক্যাম্পে আটকে পড়েছেন বাংলার ৯ জন।  তাঁদের জোর করে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ রাজ্যে কর্মসংস্থানের নেই। জনমজুরি করে যা আয় হয়, তাই দিয়ে সংসার চালানোর দায়। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা রোজগারের জন্য মুর্শিদাবাদ, নদিয়া-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে কাশ্মীরে পাড়ি দেন শ্রমিকরা। কেউ আপেল বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন, কেউ আবার ক্ষেতে মজুরের কাজ করেন। ভিনরাজ্য কাজ করে আয়ও মন্দ হয়। দিব্যি সংসার চলে যায়।  কিন্তু বেশি রোজগার করতে গিয়ে শেষে না বেঘোরে মরতে হয়! কুলগ্রামে জঙ্গি হামলার পর আতঙ্ক গ্রাস করেছে কাশ্মীরে কর্মরত বাংলার শ্রমিকদের।  পরিবারের লোকেরা আর চাইছেন, ঘরের লোকটি কাশ্মীরে কাজ করুন। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন। তবে এবার ব্য়ক্তিগত উদ্যোগে নয়, বরং কাশ্মীরে কর্মরত বাংলার শ্রমিকদের ঘরে ফেরার ব্যবস্থা করে দেবে রাজ্য সরকারই।  সূত্রের খবর, কাশ্মীরের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলার শ্রমিকদের খোঁজখবর নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন নবান্নের কর্তারা।  বস্তুত, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, শুক্রবার থেকে শ্রমিকদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে যাবে।  জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় শুক্রবার রাতেই ট্রেনে কাশ্মীর থেকে বেশ কয়েকজনকে ফিরিয়ে আনবে রাজ্য সরকারয পরে ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনা হবে সকলেই।  এমনকী, কাশ্মীর থেকে ফিরে আসার পর শ্রমিকদের রাজ্যে বিকল্প কর্মসংস্থার হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।  প্রসঙ্গতস কাশ্মীরের কাজ করতে গিয়ে জঙ্গি হামলার মুখে পড়েন মুর্শিদাবাদে পাঁচজন শ্রমিক। কুলগ্রামে আস্তানা থেকে জঙ্গলকে নিয়ে নৃশংসভাবে গুলি করে তাঁদের খুন করেছে জঙ্গিরা।