জল্পনা  চলছিল  বেশকদিন ধরেই। এবার কাজ শুরু হয়ে গেল সলতে পাকানোর। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে হতে পারে বড়সড়  পরিবর্তন। উত্তপূর্বের রাজ্য় থেকে বার্তা আসতেই, একে একে মুখ খুলতে শুরু করলেন রাজ্য় বিজেপির নেতারা। তবে কি দিলীপ ঘোষের পরিবর্ত ভাবছে রাজ্য় বিজেপি ?

মুকুল-দিলীপ দ্বৈরথের মধ্য়েই চলে এল আরও এক হেভিওয়েট নাম। এবার মেঘালয়ের রাজ্য়পাল তথাগত রায়ের নাম জুড়ে গেল দিলীপের পরিবর্ত হিসেবে। জল্পনার সূত্রপাত তথাগত রায়ের এক মন্তব্য়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে। যেখানে মেঘালয়ের রাজ্য়পাল পদের মেয়াদ  শেষ হলে বঙ্গ বিজেপিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চেয়েছেন তথাগত। করোনা পরিস্থিতির জন্য় রাজ্য়পাল পদে মেয়াদ ফুরোলেও আপাতত সেই দায়িত্বই পালন করছেন তিনি। তবে দল চাইলে সাংবিধানিক পদ থেকে বাংলার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইতিমধ্য়েই রাজ্য় বিজেপিতে তথাগতর এই ইচ্ছে প্রকাশ নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বঙ্গ বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা তথাগত রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও অন্য পথে হেঁটেছেন রাজ্য় বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সরাসরি তিনি বলেন, 'কে কোথায় রাজনীতি করবেন তা আমার দেখার বিষয় নয়। দল সেটা ঠিক করবে।' কিন্তু দিলীপ ঘোষের এই  মন্তব্য় ঘিরেই রাজ্য় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
 
এমনিতেই গেরুয়া ব্রিগেডে হেভিওয়েট নাম তথাগত রায়। অতীতে রাজ্য় বিজেপির সভাপতি ছিলেন তিনি। হিন্দুত্বের 'পোস্টার বয়' হওয়ায় তাকে নিয়ে এমনিতেই ইতিবাচক ভাবমূর্তি  রয়েছে আরএসএস-এর। যদিও মেঘালয়ের রাজ্য়পাল পদে থাকার সময় বহু বিতর্কিত টুইট করেন তিনি। যার জেরে রাজ্য়পাল পদে থেকে তাঁর এই টুইট নিয়ে প্রশ্ন করেছেন অনেকেই। বার বার বিতর্কে জড়িয়েছেন। তবে এই মুহুর্তে বাংলায় তিনি এলে বিজেপি যে বাড়তি অক্সিজেন পাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 

দিলীপ-বিরোধী ব্রিগেডের মতে, এই মুহূর্তে রাজ্য়ে বিজেপির পালে হাওয়া রয়েছে। কিন্তু মমতার বিরুদ্ধে একজন শিক্ষিত বাঙালি মুখ দেখতে চাইছে রাজ্য়বাসী। সেকারণেই বিজেপি অবাঙালিদের দল বলে প্রচার  চালাচ্ছেন মমতা। বাইরে থেকে এসে কাউকে বাংলা শাসন  করতে দেব না বলছে ঘাসফুল শিবির। ইচ্ছে করে বাঙালির মধ্য়ে এই ভাবাবেগ জাগিয়ে তোলা  হচ্ছে।  যার সাম্প্রতিক উদাহরণ ডেরেক ও'ব্রায়েনের 'সোজা বাংলায় বলছি'। অতীতে এই পলিটিক্য়াল কার্ড  খেলেই লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় কিছুটা হলেও নিজেদের ভোট কাটতে পেরেছে তৃণমূল। মধ্য় কলকাতায় রাহল সিনহার ভোটপ্রচারে আসেন অমিত শাহ। সেই মিছিলে বিদ্য়াসাগরের মূর্তি  ভাঙার অভিযোগ ওঠে। বিজেপির ওপর দায় চাপিয়ে 'জয় বাংলা' কার্ড  খেলেন মমতা। যার ফলও পাওয়া যায় হাতেনাতে।

সেকারণে বাংলার সক্রিয় রাজনীতিতে তথাগত রায় এলে বল বাড়বে বিজেপির। যদিও রাজ্য় রাজনৈতিক মহল বলেছ, দিলীপ ঘোষের বিকল্প হিসাবে তাঁকে এমনিতেই  পেশ করতে পারবে না কেউ। তথাগতবাবুর সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে বয়স। এমনিতেই ৭৪ বছর বয়স হয়েছে তাঁর। মোদী-শাহের নীতি অনুযায়ী, ৭৫ বছরের উর্ধের কোনও নেতাকে মন্ত্রিসভা বা সক্রিয় কাজে নিতে নারাজ তারা। সেখানে দাঁড়িয়ে বয়স বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তাঁর। কারণ মমতাকে হঠাতে এখন মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেওয়ার নেতা চাইছে দল। যা দিলীপের অনুকূলেই যাবে।