বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য়ের বহু মুসলিমই যোগ দিতে পারেন বিজেপিতে। বেগতিক  দেখে এবার গেরুয়া ঘেঁষা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফরমান জারি করলেন বেঙ্গল ইমাম অ্য়াসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ ইয়াহিয়া। এক লিখিত  বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুসলিমদের কেউ যদি বিজেপিতে যোগ দেন তবে তাঁকে মুসলিম হিসেবে গণ্য় করা হবে  না। যা নিয়ে রাজ্য়ের মুসলিমদের মধ্য়েই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

কদিন আগেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্য়েই দল ছাড়েন বাংলার তারকা ফুটবলার মেহতাব হুসেইন। দীর্ঘদিন ইস্টবেঙ্গলে খেল মোহনবাগানে যোগ দেন তিনি। তবে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও মেহতাবের বিজেপিতে যোগদানে অবাক করেছিল অনেককে। এ প্রসঙ্গে 'মিডফিল্ড জেনারেল' বলেন,মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। সেক্ষেত্রে একটা প্ল্যাটফর্মের খুব প্রয়োজন। তাই রাজনীতিতে এসেছেন তিনি। পরে অবশ্য় সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিজেপি ছাড়েন। এ বিষয়ে বিজেপির  তরফে দাবি  করা হয়, শাসক দলের তরফে চাপ সৃষ্টি করে মেহতাবের সিদ্ধান্ত বদল  করা হল। 

রাজ্য়  রাজনৈতিক মহল বলছে,  বিজেপরি দাবি যে অমূলক নয়-তা এবার বেঙ্গল ইমাম অ্য়াসোসিয়েশেনের বক্তব্য় থেকেই পরিষ্কার। যেখানে মুসলিমদের বিজেপিতে যাওয়া রুখতে আগেভাগেই নিদান দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বেঙ্গল ইমাম অ্য়াসোসিয়েশনের সভাপতি ইয়াহিয়া বলেন, মুসলিমদের কেউ কেউ রাজনীতির ক্য়ারিয়ার পেতে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে।  তাদের মনে রাখতে হবে,বিজেপি ও আরএসএস মুসলিম বিরোধী। বিজেপিতে যাওয়া এই মুসলমানদের বিরুদ্ধেও পরে আওয়াজ উঠবে। কোনও মুসলিম বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁকে মুসলিম হিসেবে গণ্য় করা হবে না।

এখানেই থেমে থাকেনি ইমামের বক্তব্য়। রাম মন্দিরে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া প্রসঙ্গে ইয়াাহিয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে রাম মন্দিরের ভূমি পুজোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাস্থ্যবিধি ভেঙেছেন। সেখানে এক পুরোহিত ও তাঁর সহযোগী করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরেও প্রধানমন্ত্রী সেখানে গেলেন। নিজামুদ্দিনের জমায়েতের সময় প্রশাসন এত তৎপরতা নিল, একই পরিস্থিতিতে অযোধ্যায় ভূমি পুজোর কর্মসূচি তাহলে কীভাবে হল?