পড়ুয়ারা সকলেই গরিব ঘরের ছেলেমেয়ে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে উদ্যোগ নিয়ে স্কুলের ভবনটি তৈরি করে দিয়েছেন।  কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি, স্কুলবাড়ি ও জমিতে এখন নিয়মিত বসছে বিয়ের আসর! এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলরই স্কুলের ভবনটি অনুষ্ঠান বাড়ি হিসেবে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, একাধিকবার বারণ করা হয়েছে, কিন্তু কাউন্সিলর শোনেননি।  চরম সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষক ও পড়ুয়ারা।

শিক্ষকদের বেতন হোক কিংবা পড়ুয়াদের বইখাতা, গার্ডেনরিচের আর্য পরিষদ স্কুলের যাবতীয় খরচ চলে অন্যের আর্থিক সাহায্যে। বস্তুত, স্কুলের নিজস্ব ভবন ও জমিও ছিল না। এখন যে ভবনে পঠনপাঠন চলে, সেই ভবনটি কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম তৈরি করে দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অনুমতি ছাড়াই স্কুলের ভবনটি অনুষ্ঠান বাড়ি হিসেবে ভাড়া দিচ্ছেন শাসকদলের কাউন্সিলর রাম পেয়ারি রাম। স্কুলের এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয় প্যান্ডেল, আটকে দেওয়া হয় গেটও! ফলে স্কুলে এসেও ক্লাস না করেই বাড়ি ফিরে যেতে হয় পড়ুয়াদের। 

আরও পড়ুন: বদলে যাচ্ছে সেন্ট্রাল পার্ক, কী কী নতুন পরিবর্তন হচ্ছে বনবিতানে

জানা গিয়েছে, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগে আর্য পরিষদ স্কুলের পড়ুয়াদের কুচকাওয়াজের শেষ  মহড়া ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু সকালে যখন স্কুলে পৌঁছন প্রধান শিক্ষিকা, তখন দেখেন গেটে তালা ঝুলছে! স্কুলের বাইরে বাঁশ পোঁতা হয়েছে।  এমনকী যেখানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল, ঘিরে ফেলা হয়েছে সেই জায়গাটিও। অগত্যা কলকাতা বন্দরের পরিত্যক্ত জায়গাতেই মহড়া দিতে শুরু করে আর্য পরিষদ স্কুলের পড়ুয়ারা। 

কী বলছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর রাম পেয়ারি রাম?  এভাবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া স্কুলবাড়ি অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া যে আইনবিরুদ্ধ, তা মানতেই রাজি নন তিনি।  কাউন্সিলের বক্তব্য, স্কুলটি যে কমিটি পরিচালনা করে, সেই কমিটির সদস্য তিনি। অতএব স্কুলের বাড়িটি ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতেই পারেন।  স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি কোনও প্রয়োজন নেই!  এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি তুলেছেন আর্য পরিষদ প্রধান শিক্ষিকা।