আগে ছিলেন সুজিত বসুর লোক। সম্প্রতি বিধায়ক ব্রাত্য বসুর সঙ্গে সখ্যতা বাড়তেই বিপাকে পড়লেন দক্ষিণ দমদম পৌরসভার কাউন্সিলর মানসরঞ্জন রায়। অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে বিশাল বাইক বাহিনী নিয়ে পৌরপিতার অফিসে তাণ্ডব চালানো হয়। মুখে নাম না করলেও এর পিছনে যে দলের গোষ্ঠীকোন্দল তা মানসবাবুর কথাতেই স্পষ্ট।

ভরদুপুরে বাইক বাহিনীর তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল লেকটাউন। এদিন লেকটাউন বি ব্লকের একটি পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। এলাকাবাসীরা জানান, তৃণমূলের ওই পার্টি অফিসেই বসেন দক্ষিণ দমদম পৌরসভার কাউন্সিলর মানসবাবু। প্রায় তিনশো বাইকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ক্যারেক্টার  সার্টিফিকেটের জন্য পৌরপিতার  কাছে এসেছিলেন তিনি। সে সময় বিশাল বাইক বাহিনী পার্টি অফিস ঘিরে ফেলে। নিমেষের মধ্যেই ভেঙে ফেলা হয় চেয়ার। 

পরে মানসবাবু জানান, দুপুর দেড়টা নাগাদ বিশাল বাইক বাহিনী এসে তাঁর অফিসের সামনে দাঁড়ায়। তাঁর নাম ধরে গালিগালাজ করতেই পার্টি অফিসের মধ্য়ে চলে যান তিনি। পরে ওই দুষ্কৃতীরা চেয়ার ভেঙে ফেলে। ছিঁড়ে ফেলা হয় তৃণমূলের পতাকা। এলাকার দোকানপাট বন্ধ করে দেয় বাইক বাহিনী। কেন তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের হামলা চালানো হল তা ঠাওর করতে পারছেন না তিনি।

তবে স্থানীয় তৃণমূলের একাংশ বলছে, এলাকায় এক সময় সুজিত  বোসের লোক বলে পরিচিত ছিলেন মানসবাবু। সম্প্রতি ব্রাত্য বসুর কাছে লোক হতেই সুজিত বোসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তাঁর। লেকটাউনে প্রোমোটিংকে কেন্দ্র করে মানসবাবুর সঙ্গে বিবাদ বাঁধছিল সুজিত ঘনিষ্ঠদের। যার জেরে এদিন সুজিত ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের ছেলেরাই মানসের অফিসে হামলা চালিয়েছে। নিজের অভিযোগে সুজিত বসুর নাম না নিলেও এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল যে রয়েছে তা বুঝিয়ে দেন কাউন্সিলর। তিনি বলেন, যারা তৃণমূলের পতাকা ছিঁড়তে পারে তাদের কখনোই তিনি দলের লোক মনে করেন না । তারা তাঁর কাছে দুষ্কৃতী ছাড়া অন্য কিছু নয়। এ বিষয়ে দলের কাছে অভিযোগ জানাবেন তিনি।