বিস্তর টালবাহানা হয়েছে। পক্ষে বিপক্ষে দুই দলেই লোকের অভাব ছিল না। কিন্তু শেষবেলায় ঝোড়ো ব্যাট করে ডাক্তারদের মন জয় করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর দলের মধ্যেই যারা চিকিৎসকদের আন্দোলন নিয়ে দ্বিধান্বিত ছিলেন তাঁরাও সেলাম করছেন নেত্রীকে। হ্যাঁ, এই তালিকায় নাম দেব। 

চিকিৎসকের আন্দোলনের প্রথম থেকেই চিকিৎসকদের পক্ষ নিয়েছিলেন দেব। গত ১৩ মে তিনি নিজের ট্যুইটারে লেখেন, "যারা আমাদের প্রাণ বাঁচান তাঁরা কেন বারবার মার খাবেন? তাঁদের সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। আবার তারই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ অসুস্থ মানুষ ডাক্তারবাবুদের দিকে তাকিয়ে, আপনারা পাশে না দাঁড়ালে তারা অসহায়। সবার শুভবুদ্ধি ফিরে আসুক, সমস্যার সমাধান চাই।" বোঝাই যায় নাগরিক উদ্যোগ এবং একই সঙ্গে চিকিৎসকদের পেশার আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছিলেন দেব। 

প্রসঙ্গত গত সোমবার নবান্নে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার মিটিংয়ে মমতার গলাতেও ছিল সেই একই সুর। তিনি চিকিৎসকরদের ভাতৃস্নেহে সম্বোধন করে বলেন, কাজে ফিরতে। তাঁদের ১২ দফা দাবি শুনে প্রতিটি সমস্যার আশু সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনরত চিকিৎসকরা তার পরেই হাসপাতালে ফিরে এই কর্মবিরতি তুলে কাজে যোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেন।

মমতার এই উদ্যোগ বিপুল প্রশংসিত হয়েছে নেট দুনিয়ায়। ম্যাজিকে মজেছেন অভিনেতা দেব-ও। তিনি এদিন তাঁর ট্যুইটার লেখেন, 'এটাই মমতা ম্যাজিক। কাছে বসলেন, কথা শুনলেন, সমস্যার সমাধান হলো। এসমা জারি হয়নি, পুলিশ পাঠাতে হয় নি। কথা বলে সমস্যার সমাধান। থ্যাঙ্ক ইউ দিদি।' যে সমস্যার জট সাত দিনে ছাড়ানো যায়নি, সেই সমস্যাকে মমতা দুই ঘণ্টায় বাকপটুতায় ভ্যানিশ করে দেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি দেব।