- Home
- West Bengal
- Kolkata
- ২০ হাজার টাকা থেকে একলাফে ৫১ হাজার! সপ্তম পে কমিশনে লটারি লাগবে বাংলার সরকারি কর্মীদের!
২০ হাজার টাকা থেকে একলাফে ৫১ হাজার! সপ্তম পে কমিশনে লটারি লাগবে বাংলার সরকারি কর্মীদের!
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকার সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের ঘোষণা করেছে। এই পে কমিশনে এক ধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বেতন বাড়বে সরকারি কর্মীদের। দেখে কে কত টাকা পাবেন

কবে থেকে কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো? সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। ফলে নতুন সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশগুলি তাত্ত্বিকভাবে বা নথিগতভাবে (notionally) ১লা জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বাস্তবে বর্ধিত বেতন বা 'ক্যাশ বেনিফিট' কবে থেকে কর্মীদের হাতে আসবে, তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে, কারণ কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া এবং তা অর্থ দপ্তরের অনুমোদনের মাঝে সাধারণত একটি সময়ের ব্যবধান থাকে।
বেতন ঠিক কত বাড়তে পারে? (সম্ভাব্য হিসাব): সপ্তম বেতন কমিশনে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারণের জন্য সাধারণত একটি 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' (Fitment Factor) ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সপ্তম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে এই গুণকটি ছিল ২.৫৭।
যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ধাঁচে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করে, তবে বর্তমান মূল বেতনের (Basic Pay) সঙ্গে এই গুণক প্রয়োগ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে।
মূল বেতন বৃদ্ধি: উদাহরণস্বরূপ, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে কারো মূল বেতন যদি ২০,০০০ টাকা হয়, তবে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তা বেড়ে প্রায় ৫১,৪০০ টাকা হতে পারে।
সর্বনিম্ন বেতন: কেন্দ্রীয় সপ্তম বেতন কমিশনে সর্বনিম্ন বেতন ১৮,০০০ টাকা করা হয়েছিল। রাজ্যেও বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হলে সর্বনিম্ন বেতনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভাতা ও ইনক্রিমেন্ট: মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA), চিকিৎসা ভাতা এবং বার্ষিক ৩ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের কাঠামোটিও নতুন করে সাজাবে এই কমিশন।
মহার্ঘ ভাতা (DA) ও বেতন কমিশনের যোগসূত্র:
বাজেটে নতুন বেতন কমিশন ঘোষণার পাশাপাশি অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে, যা ১লা এপ্রিল, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্যের ডিএ-র হার ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশে দাঁড়াবে।
তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির মতে, কেন্দ্রের সঙ্গে বর্তমানে ডিএ-র ফারাক প্রায় ৩৬ শতাংশ, যা বেতন বৃদ্ধির প্রকৃত সুফলকে সীমিত করে দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, বকেয়া ডিএ না মিটিয়ে নতুন পে কমিশন কার্যকর করলে কর্মীদের প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমনটা রোপা ২০১৯-এর সময় হয়েছিল।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ: সপ্তম বেতন কমিশন ঘোষণার পর এখন পরবর্তী ধাপগুলি হলো:
• রাজ্য সরকার শীঘ্রই কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম সম্বলিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি (Notification) জারি করবে।
• কমিশন বর্তমান বাজারদর এবং জীবনযাত্রার মান বিচার করে একটি নতুন বেতন কাঠামো বা 'রোপা ২০২৬' (ROPA 2026) প্রস্তাব করবে ।
• কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার পর অর্থ দপ্তর চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই বর্ধিত বেতন কর্মীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি কেন্দ্রীয় হার মেনে বেতন কাঠামো তৈরি হয়, তবে কর্মীদের হাতে পাওয়া নগদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের জন্য একটি মাস্টারস্ট্রোক হতে পারে। কর্মীদের এখন নজর থাকবে নবান্নের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে, যেখানে বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট সামনে আসবে

