ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, এমনকী খাস বিহারেও যখন দু'দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার, তখন ছটপুজো উপলক্ষে বাংলায় বসবাসকারী বিহারীর তিন দিন ছুটি পাবেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত এ রাজ্যে বসবাসকারী বিহারীর সর্ববৃহৎ সংগঠন রাষ্ট্রীয় বিহারী সমাজ। সংগঠনের সভাপতি মণিপ্রসাদ সিং বলেন, 'এ কথা বলতেই দ্বিধা নেই, বিহারীরা বিহারের থেকে বাংলাতেই অনেক ভালো আছি। মমতাদি আমাদের জন্য যা করেছেন, তা অভাবনীয়।' 

বাঙালিদের জন্য দুর্গাপুজো, বিহারীদের তেমনি ছটপুজো।  ছটপুজো উপলক্ষে তিন ধরে রীতিমতো উৎসব চলে বিহারে। ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গেও  সূর্য পুজোর এই উৎসবে মেতে ওঠেন বিহারীরা।  এবারের ছটপুজো পড়েছে  নভেম্বরের ২ ও  ৩ তারিখ, শনি ও রবিবার।  বছরের গোড়ায় সরকারি তালিকায় দু'দিনই ছুটি ছিল। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ৪ নভেম্বর অর্থাৎ সোমবারও ছুটি দেওয়ার আর্জি জানান এ রাজ্যের বসবাসকারী বিহারীদের এক প্রতিনিধিদল। সেই আর্জি মেনে ছট পুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকারি, আধা সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়তি আরও একদিন ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।  অর্থাৎ ছটপুজোয় এ রাজ্যে বসবাসকারী বিহারী ছুটি পাবেন তিনদিন। কিন্তু ঘটনা হল, বাংলার ছাড়া আর সব রাজ্যে, এমনকী, বিহারেও ছুটপুজোয় ছুটি দু'দিনের। 

বাম জমানায় কিন্তু এ রাজ্যে ছটপুজো একদিন ছুটি থাকত।  ক্ষমতা আসার পর ছুটি বাড়িয়ে দু'দিন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এই সিদ্ধান্তে খুশি হয়ে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভা করে মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানায় বিহারী সমাজ।  এ রাজ্যে হিন্দিভাষী মানুষের সংখ্যা প্রায় দু'কোটি। সিংহভাগই বিহারী।