অধিবেশন চলাকালীনই কার্যত আচমকা দু' দিনের জন্য স্থগিত হয়ে গেল রাজ্য বিধানসভা। এ দিন বিধানসভায় এই ঘোষণা হতেই সরকারের সমালোচনা শুরু করেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিধানসভার ইতিহাসে এটি বেনজির ঘটনা। সরকারিভাবে বিধানসভা বন্ধ রাখার কোনও কারণ না জানানো হলেও সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজভবনে কয়েকটি বিল আটকে থাকাতেই বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে। 

বিধানসভা সূত্রে খবর, শীতকালীন অধিবেশনে পাশ করানোর জন্য বেশ কয়েকটি বিল কয়েকদিন আগে রাজভবনে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই বিলগুলি এখনও পাশ হয়ে আসেনি রাজভবন থেকে। সেই কারণেই বুধ এবং বৃহস্পতিবার জন্য অধিবেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে। 

নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দু' দিন করে অধিবেশন চলার পর বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠক বসে। সেখানে পরবর্তী দিনগুলিতে বিধানসভার কী কর্মসূচি হবে সরকার পক্ষ এবং বিরোধী পক্ষের বিধায়করা একসঙ্গে বসে তা ঠিক করেন। এ দিন সকালে সেই বৈঠক বয়কট করেছিলেন বিরোধীরা। পরে জানা যায়, বুধ এবং বৃহস্পতিবার অধিবেশন বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেব অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিল আটকে থাকার কারণেই অধিবেশন স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে জানান অধ্যক্ষ। 

সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, বিধানসভা বন্ধ রাখার বিষয়ে আগে থেকে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি। বিরোধীদের বিধানসভায় কথা বলার সুযোগ না দিতেই এভাবে আচমকা বিধানসভা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, ডেঙ্গু, মূল্যবৃদ্ধি, কল কারাখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে ১৮৫ ধারায় সরকারকে নোটিশ দেওয়া রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়গুলি সরকারের কাছে অস্বস্তিকর হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেতেই বিধানসভা বন্ধ করে দেওয়া রহচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সুজন বাবু। 

কটাক্ষ করে সুজনবাবু বলেন, 'বিল পেশ করার দায়িত্ব সরকারের। কোনওদিন যদি বিল পেশ না করা যায়, তাহলে তো বিধানসভা হওয়ার কথা নয়। বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির বৈঠকে তো আমাদের বিল আটকে থাকার কথা বলা হয়নি। এভাবে বিধানসভার অধিবেশন দু' দিনের জন্য বন্ধ রাখাটা নজিরবিহীন। কালকে কি রেইনি ডে নাকি কোনও ছুটির দিন? বিল পাশ না হয়ে এলে তো প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা যেত, আলোচনা করা যেত।' কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, 'সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিধানসভা বন্ধ রাখা হচ্ছে।' এই বিষয়ে এখনও সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।