রাজ্য়ে থামছে না করোনা হানার গতি।  নিত্য়দিন বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য়ের স্বাস্থ্য় দফতরের বুলেটিন বলছে,গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন  ২২৮২ জন৷ রাজ্য়ে যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

পরিসংখ্য়ান বলছে, একদিনে রাজ্য়ে করোনা নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের৷ গতকাল এই সংখ্য়া ছিল ৩৬। যার ফলে এই পর্যন্ত বাংলায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১,১৪৭ জনে৷ গতকাল সংখ্যাটা ছিল ১,১১২ জন৷ সংখ্যা অনুযায়ী এখন অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটাও ছাড়াল ১৭ হাজার।

সোমবার রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিন জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৭৬৯ জন৷ গতকাল ছিল ৪২ হাজার ৪৮৭ জনে৷ রাজ্যে প্রতিদিনই ২০০০ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে৷  এই মূহূর্তে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাটা ১৭,২০৪ জন৷ একদিনে বেড়েছে ৭১২ জন৷

যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে কলকাতারই ১৬ জন৷ উত্তর ২৪ পরগনার ৮ জন৷ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩ জন৷ হাওড়া ৭ জন৷ জলপাইগুড়ি ১ জন৷ রাজ্য়ে ক্রমবর্ধমান করোনা পরিস্থিতি দেখে রাজ্য়ে কিছু এলাকায় গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা করছে রাজ্য় সরকার। সেই কারণেই তড়িঘড়ি সপ্তাহে দুদিন লকডাউনের পথে হাঁটল রাজ্য়। এ বিষয়ে রাজ্য়ের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্য়োপাধ্য়ায় জানিয়েছেন,ডাক্তার ও বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন বাংলায় কোথাও কোথাও গোষ্ঠী সংক্রমণ তথা কমিউনিটি স্প্রেড শুরু হয়েছে। তাই সেই শৃঙ্খল ভাঙতেই রাজ্য সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

সেমাবার রাজ্য়ের করোনা পরিস্থিতি রুখতে শক্ত হাতে রাশ  ধরলেন স্বরাষ্ট্র সচিব। এবার থেকে সংক্রমণ রোধে প্রতি সপ্তাহে দু’দিন পুরো লকডাউন থাাকবে রাজ্যে। সোমবার নবান্নে এমনই ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্দিষ্ট ওই দু’দিন রাজ্যে অফিস খুলবে না। নিয়ম মেনে কোনও পরিবহণও চলবে না। চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শনিবার রাজ্যে এই কড়া লকডাউন হবে। পরবর্তী সপ্তাহে বুধবার এই লকডাউন হবে। আলোচনা করে  অন্য আরও একটি দিন পরে ঘোষণা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন,  আমলা, বিশেষজ্ঞদের কমিটি আলোচনা করার পরই  সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙাটা জরুরি  মনে হয়েছে। তাই নতুন করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত। সেকারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কন্টেইনমেন্ট জোনে যেমন পুরো লকডাউন চলছে তেমন চলবে। তার সঙ্গে সপ্তাহে দু’দিন সারা রাজ্যেই পুরো লকডাউন সুনিশ্চিত করা হবে।সোমবার বৈঠক করে ফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ‘কোভিড হাসপাতাল ও সেফ হোমের সংখ্যা বেড়েছে। উপসর্গহীন হলে হোম আইসোলেশন ও সেফ হোমে রাখা হবে।’