করোনার ভয়ে শহর থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন বাংলেদেশিরা। আর তার প্রভাবেই কলকাতার কর্পোরেট হাসপাতাল থেকে শুরু করে নিউ মার্কেট পর্যন্ত কার্যত মাছি তাড়াচ্ছে। কারণ, বলাই বাহুল্য়, বাংলাদেশ থেকে বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অসংখ্য় রোগী আসেন, ভরতি হন আর তারপর সুস্থ হয়ে ফিরে যান। আর ওপার বাংলার নাগরিকদের সৌজন্য়েই এখানকার নিউ মার্কেট থেকে মার্কাস স্কোয়ার অনেক বেশি জমজমাট থাকে সারাবছর।

পরিস্থিতিতে এইভাবে চলতে থাকলে, আশঙ্কা করা হচ্ছে, অচিরেই ৪৪০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে কলকাতা।

 ভারতে তো বটেই, কলকাতাতে সম্প্রতি ব্য়াপকভাবে ছড়িয়েছে করোনার আতঙ্ক। গত সপ্তাহে রাজ্য় সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, এই সোমবার থেকে ৩১  মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে  রাজ্য়ের সমস্ত স্কুল। এদিকে শুধু স্কুলই নয়, সেই সঙ্গে ঝাঁপ পড়েছে কলেজগুলোতেও। এমনকি হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতেও খুব জরুরি শুনানি ছাড়া কাজ চলবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের নামি-দামি শপিং মলগুলোও খাঁ-খাঁ করছে। এই পরিস্থিতিতে ভয় বা আতঙ্ক যত বাড়ছে, তত বেশি দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা। আর তাতে করে এক গভীর মন্দার মুখোমুখি হতে চলেছে শহরের ব্য়বসাবাণিজ্য়।

গত সপ্তাহ থেকেই নিজেদের দেশে ফেরার হিড়িক পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশিদের মধ্য়ে। বিমান ধরতে সবাই ব্য়স্ত। যদিও একের-পর-এক বিমান বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তাই অগত্য়া ট্রেন ধরতে হচ্ছে।  এমতাবস্থায় মধ্য়  কলকাতার হোটেলগুলোর ঘর ভাড়া নেওয়ার লোকের সংখ্য়া উল্লেখযোগ্য়ভাবে কমছে। বিশেষ করে সাদার স্ট্রিট, মার্কাস স্কোয়ারের হোটেলগুলো একন কার্যত ফাঁকা যাচ্ছে। 

শুধু হোটেল বা বাজারই নয়। সেইসঙ্গে বাইপাসের হাসপাতালগুলোতে উদ্বেগজনকভাবে কমছে রোগীর সংখ্য়া। আউটডোরে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে রোগী। যা গোটা মাসের হিসেবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। নিউ মার্কেটের মতো মধ্য় কলকাতার বাজারগুলোতে ভিড় কমেছে ৪০ শতাংশ।  যা গোটা মাসের হিসেবে ১২০ কোটি টাকা। ছোটখাট হোটেলগুলোতে ভাড়া নেওয়ার  বোর্ডারের সংখ্য়াও কমেছ ৯০ শতাংশ। যা গোটা মাসের হিসেবে ১৫ কোটি টাকা। সেইসঙ্গে কর্পোরেট হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসার জন্য় যে ধরনের গেস্ট হাউজগুলো ভাড়া দেওয়া হত, সেখানে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫ কোটি। 

অর্থাৎ, সোজা  কথায় এইভাবে বাংলাদেশিরা শহর থেকে মুখ ফেরালে আগামী এক মাসের মধ্য়েই ৪৪০ কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে কলকাতাকে। যার মধ্য়ে অন্য়তম হল কর্পোরেট হাসপাতাল।