রাজ্য়ে  কোভিড১৯ চিকিৎসায় নয়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য় ভবন। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কারও শরীরে কোভিড১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে বা লঘু কোভিড কেসে বাড়িতে থাকতে পারবে রোগী। তবে বাড়িতে হোম কোয়ারান্টাইনের সুব্যবস্থা থাকলেই এই সুবিধা পাবেন রোগী। তার জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে তাঁকে। 

কারা কারা পাবে এই সুবিধা? স্বাস্থ্য় ভবন জানিয়েছে,যে সব রোগীর এখনও কোভিড পরীক্ষার ফল আসেনি তাদেরকে দেওয়া যেতে পারে এই সুযোগ। এমনকী যাদের শরীরে কোভিডের লঘু তথা প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিয়েছে তাদেরকেও হোম আইসোলেশনে রাখা যেতে পারে। 

গতকাল রাতে মুখ্য়মন্ত্রীর করোনা নিয়ে ঘোষণার পরই নির্দেশিকা জারি  করেছিল স্বাস্থ্য় ভবন। স্বাস্থ্য় দফতরের তরফে বলা হয়, কোভিড ১৯-এ সংক্রমিত ব্যক্তিদের আবশ্য়িকভাবে কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হবে, বাড়িতে  রাখা যাবে না। তবে কোভিড সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা 'প্রাইমারি' ও 'সেকেন্ডারি' ব্যক্তিরা চাইলে বাড়িতেই 'আইসোলেশনে' থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছিল রাজ্য় সরকার। 

— ANI (@ANI) April 27, 2020  

কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে থাকবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ। কী বলা হয়েছে ওই বিধি নিষেধে? স্বাস্থ্য় ভবন জানিয়েছে,কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তির 'প্রাইমারি' ও 'সেকেন্ডারি কন্টাক্সস'রাই কেবল 'হোম কোয়ারান্টাইন'-এর সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে বাড়িতে উপযুক্ত  বড় জায়গা থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির। প্রতি পদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে তাঁকে। মাস্ক ব্যবহার ছাড়াও স্বাস্থ্য় দফতরের পরামর্শ মেনে চলতে হবে তাঁকে। এমনকী ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তি স্বাস্থ্য় দফতরের নিয়ম মেনে 'হোম কোয়ারান্টাইন' পালন করছেন কিনা তা দেখতেও স্থানীয় স্বাস্থ্য় আধিকারিকদের পাঠানো হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্য়ক্তিকে পরামর্শ দেবেন ওই স্বাস্থ্য়কর্মীরা।  

যদিও নবান্নে খোদ মুখ্য়মন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, এবার থেকে রাজ্য় সরকারের নির্দেশেই বাড়িতে থাকতে পারবেন কোভিড পজিটিভ রোগী। অন্তত তেমনই জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা 'এএনআই'। নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রী বলেছেন, কোনও কোভিড পজিটিভ রোগীর যদি বাড়িতেই থাকার সুবন্দোবস্ত থাকে, তাহলে করোনায় আক্রান্ত  হয়েও বাড়িতেই থাকতে পারবেন তিনি। সেক্ষেত্রে নিজেকে সবার থেকে আলাদা রাখতে হবে রোগীকে। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, লক্ষ লক্ষ রোগীকে কোয়ারান্টাইন করার মতো ব্যবস্থা নেই সরকারের। বুঝতে হবে, সরকারেরও একটা সীমাবদ্ধাতা আছে। 

— ANI (@ANI) April 27, 2020  

সোমবার নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, যাদের ঘর বাড়ি রয়েছে।  আইসোলেশনে থাকবার জায়গা আছে, তার ঘরে  কারও করোনা পজিটিভ হলে তিনি  তাঁর বাড়িতে  থেকেই হোম কোয়ারান্টাইন থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকারকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে আনতে হবে না। তাতে মানুষেরও অসুবিধা হয়। মানুষ নিজের বাড়িতে থাকলে অনেক ভালো থাকে। সরকারেরও সীমাবদ্ধতা থাকে। একটা হাসপাতালে  গেলে অনেক রকম রোগীদের মধ্য়ে থাকতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেক রকম সমস্য়া সৃষ্টি হয়। ঘরটা কিন্তু নিজের মতো করে রাখা যায়। যদি কেউ মনে করেন আরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখবেন। কারও সঙ্গে মিশবেন না। তাহলে মনে রাখবেন, হোম কোয়ারান্টাইনটা সবথেকে মডেল কোয়ারান্টাইন। পৃথিবীতে অনেক জায়গায় এটা চালু হয়ে গেছে।

এদিকে মুখ্য়মন্ত্রীর এই ঘোষণা প্রকাশ্য়ে আসতেই ময়দানে নেমেছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্য়েই মুখ্য়মন্ত্রী এই ঘোষণা টুইট করেছেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। অর্জুন সিং বলেছেন, অবশেষে উনি স্বীকার করলেন বাংলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যাটা হাজার নয় লাখ। আর ওনার সরকার এই পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা রাখেন না। নিিজেই সেই কথা স্বীকার করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী।

 যদিও রাত হতেই খোদ মুখ্য়মন্ত্রীর উল্টো পথে হেঁটেছে স্বাস্থ্য় ভবন। নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের কিছু ঘণ্টার মধ্য়েই ঘটে গেল পরিবর্তন। আদতে 'মুখ্য়মন্ত্রীর বক্তব্য়ের সাফাই' দিল স্বাস্থ্য়ভবন। নির্দেশিকা জারি করে নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ দিল তারা।