খাস ময়দানের সবুজকেও গ্রাস করেছে ধুলোর দূষণ। যার জেরে কলকাতার ফুসফুসে কমছে অক্সিজেনের মাত্রা। বেগতিক দেখে এবার ধুলো নিয়ন্ত্রণে নামল রাজ্য়ের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। শীঘ্রই কলকাতার রাস্তায় ঘুরবে এই দূষণ নিয়ন্ত্রণের গাড়ি। 

প্রথমটায় রাসায়নিকের নাম শুনে ভয় পেয়েছিলেন অনেকেই। ধুলো নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক ছড়ালে শরীর ভালোর থেকে ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলেন একাংশ। যদিও ন্যাশনাল টেস্ট হাউস ও ইন্ডিয়ান ইনস্টটিউট অব টক্সিকোলিজির পরীক্ষায় রিসার্চের পরীক্ষায় উতরে গিয়েছে এই রাসায়নিক। যারপর সিদ্ধান্ত হয়েছে,কলকাতার ধুলো নিয়ন্ত্রণে জলের সঙ্গে মিশিয়ে ছড়ানো হবে সোডিয়াম লিগনোসালফোনেট। প্রশ্ন ওঠে, কীভাবে কাজ করবে এই রাসায়নিক। 

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে,এই রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই হাল্কা ধুলোর কণা ভারী হয়ে যাবে। ফলে আকাশে উঠতে না পেরে জমিতেই আস্থানা হবে তাদের। হাওয়াতে ধুলোর কণা উড়তে না পারায় বাতাসেও স্থান হবে না ধুলিকণার। ফলে অনেকটাই ধুলো মুক্ত বাতাস নিতে পারবে কলকাতাবাসী। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের সমীক্ষা বলছে, রাস্তায় এই রাসায়নিক স্প্রে করার পর ৩০ শতাংশ ধুলোর মাত্রা কমে যায়। দাহ্য না হওয়ায় বাতাসে ছড়ালে এর থেকে আগুন ধরারও সম্ভাবনা নেই। 

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে বলা হয়েছে,আপাতত কলকাতার বাতাসে ধুলোর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনটি রাসায়নিক ছড়ানোর গাড়ি ব্য়বহার করা  হবে। প্রতিদিন ৫০ কিলোমিটার রাস্তায় রাসায়নিক ছড়াবে প্রতিটি গাড়ি। সকাল ও সন্ধেতেই এই রাসায়নিক রাস্তায় ছড়ানো হবে। তবে শীঘ্রই গাড়ির সংখ্যা বাড়াতে টেন্ডার ঢাকা হবে। সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের সমীক্ষা বলছে, রাসায়নিক ছড়নোর ১০মিনিটের মধ্যেই ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ধুলো কমে যাবে পরিবেশে। ৬ ঘণ্টা পরেও রাসায়নিক ছড়ানোর ফলে ৩০ শতাংশ ধুলো রাস্তায় উড়তে পারে না। 

আপাতত প্রতি গাড়িতে খরচ হবে ২৫ কোটি টাকা। এয়ারপোর্ট-রুবি-গড়িয়ার রাস্তায় ছুটবে এই গাড়ি। উত্তর কলকাতায় কলেজ স্ট্রিট শ্যামবাজার হয়ে এক্সাইডের রাস্তা ধরবে এই গাড়িগুলি। এছাড়াও হাজরা-এসস্প্ল্য়ানেড-বিবাদিবাাগের রাস্তায় ছড়ানো হবে এই রাসায়নিক। বাদ যাবে না ডানলপ ,চিড়িয়ামোড় দমদমের রাস্তা।