মাত্র ৯ দিন পার হয়েছে। নীলরতন সরকার হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল হইচই হয়। একদল বহিরাগত হেনস্থা করতে শুরু করেন চিকিৎসকদের। তুমুল বচসা, হাতাহাতির মধ্যে মাথার খুলি ফেটে যায় ইন্টার্ন ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর বড় মাশুল দিতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চিকিৎসক-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশ নিস্ক্রিয় ছিল। এর উত্তরে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে রীতিমতো ধমকাতে দেখা যায় নগরপাল অনুজ শর্মাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, থানার সক্রিয়তা ফেরত চাই।

এই ক্ষত মেটানোর উদ্যোগের দিন কয়েকের মধ্যেই শহরে মধ্যরাতে নিগ্রহের শিকার হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। গত মঙ্গলবার রাতে নিজের সহকর্মীর সঙ্গে একটি অ্যাপ ক্যাবে চড়ে কর্মস্থল থেকে দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। এক্সাইড মোড়ে একদল বাইকবাজ তাঁর গাড়িটিতে ধাক্কা মারে। অপরাধ করে ক্ষমা চাওয়া তো দূরে থাক। উল্টে ওই গাড়ির চালককেই বাইরে বের করে ওই যুবকরা বেধড়ক মারধর করতে থাকে।

এরপরে শুরু হয় নতুন নাটক। ঊষশীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনায় সাহায্য চাইতে গেলে প্রথমে ময়দান থানা থেকে তাঁকে ভবানীপুর থানায় যেতে বলা হয়। পরে ওই যুবকরা ফের প্রিন্স আনওয়ার শাহ রোডে উষশীদের উপরে চড়াও হলে চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ জানাতে যান উষশী। সেখান থেকেও তাঁকে ফের ভবানীপুর থানায় যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ। 

প্ৰশ্ন হল, মধ্যরাতে একজন মহিলা নিগৃহীত হলে এই থানা ওই থানায় ঘুরতে হবে কেন একজন নগরবাসীকে? বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে আশু ব্যবস্থা নিতে তৈরি হবে না কেন পুলিশ বাহিনী? কেন মহিলা  পুলিশ থাকবেন না থানায়? 

এই প্রশ্নের উত্তর চাইতে হয় পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। কিন্তু তিনি নিজেই তো ক্ষুব্ধ পুলিশের ভূমিকায়। নৈহাটিতে তিনি প্রথম পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখ খোলেন। প্ৰশ্ন তোলেন বিধায়কদের মিটিংয়েও। শেষমেশ তাঁকে দেখা যায় জুনিয়র ডাক্তারদের সামনেই অনুজ শর্মাকে পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে।

আরও পড়ুনঃ মন জয়ের ওষুধ জানেন মমতা, সাত দিনে যুদ্ধ শেষ, হাসছেন ডাক্তাররা

তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুলিশ সামলাতে অপারগ? কেন প্রতিটি কাণ্ডে বারবার কাঠগড়ায় তারাই? পুলিশের কি কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে? প্রসঙ্গত এবার পোস্টাল ব্যালটে ৩৯টি আসনে হার হয়েছে তৃণমূলের। অনেকেই অবগত এই ভোটের অনেকাংশই পুলিশরে মত। তাহলে কি শাসককে অপছন্দ করেই দায়িত্ব এড়াচ্ছে পুলিশ? নাকি চিরাচরিত আলসেমি, কাজ না করার মানসিকতা পেয়ে বসেছে তাদের?

কারণ যাই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চয়ই জানেন নগর পুড়লে দেবালয় বাঁচে না। মানুষের হয়রানির উত্তর মানুষই দেবে। দিয়েওছে ব্যালট বক্সে। কিন্তু বিষম চাপের মধ্যে, বিরোধীর বিষ নিশ্বাস এড়িয়ে, মমতা কি পারবেন পুলিশকে সবক শেখাতে?

প্রসঙ্গত, এদিন ঘটনার খবর কানে যেতেই হাল ধরেছেন মমতা। তাঁর নির্দেশেই চারু মার্কেট থানার এসআই পীযূষ বলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবানীপুর, ময়দান থানার এসআই-কে শো-কজ করা হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে।