ভাসতে পারে শহর কলকাতা। গঙ্গার জলস্তর বেড়ে জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের আগাম সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ভরা কোটাল ও জোয়ারের জন্য জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে গঙ্গাতে। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে যদি দীর্ঘক্ষন ধরে তা বজায় থাকে ও ভাটা যদি দেরিতে শুরু হয়। তবে সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। 

এরই মাঝে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতার বুকে। যদি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হয়, তবে অবস্থা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হতে পারে কলকাতা পুরসভাকে। তাই আসরে নামল পুরসভা। ইতিমধ্যেই কলকাতা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মন্ডলের চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম শহর কলকাতার সমস্ত পাম্পিং স্টেশন গুলিতে হাই এলার্ট জারি করেছেন। পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলির জলমগ্ন অবস্থা থেকে দ্রুত মানুষকে মুক্তি দিতে, অতিরিক্ত ক্ষমতা সম্পন্ন ভ্রাম্যমাণ পাম্প সেটের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 

শুক্রবার গঙ্গা নদী সংলগ্ন পাড় ও শহরের লকগেটগুলি পরিদর্শন করলেন কলকাতা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও নিকাশি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তারক সিং। ইতিমধ্যেই শহর কলকাতাতে যাতে জলমগ্ন অবস্থার সৃষ্টি না হয়, তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 

এদিকে, একদিকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, তার ওপর অমাবস্যার ভরা কোটাল। ফলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় প্রহর গুণছে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইয়সে ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্র বাঁধ ও নদী বাঁধ এখনও পুরোপুরি সারাই করা হয়নি। তার আগেই জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতায় রাতের ঘুম উড়েছে উপকূলবর্তী জেলার মানুষদের। ইতিমধ্যেই ঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নদী ও সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের। 

যদিও ঘূর্ণিঝড়ের কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি আবহাওয়া দফতরের তরফে। বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন এলাকায় বাঁধগুলিতে নজরদারি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। আজ থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে হাওয়া অফিস।