লকডাউন ঘোষণার সময়েই মনে হয়েছিল এখন ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি ফেরার সময় নয়। দায়িত্ব নিতে হবে অনেকগুলো অসহায় মানুষের। কিন্তু দুবেলা খাইয়ে পড়িয়ে ২০ হাজার মানুষকে যে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে, সেটা কোনওভাবেই কল্পনা করেননি জনা ২০ প্রবাসী বাঙ্গালি। এখন এই ২০ জনের ঘাড়েই প্রায় ২০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে দুবেলা দুমুঠো খাইয়ে পড়িয়ে বাঁচিয়ে রাখার গুরুদায়িত্ব এসে পড়েছে। এই জনা ২০ প্রবাসী বাঙ্গালি কর্মসূত্রে থাকেন বেঙ্গালুরুতে। কর্ণাটকে আটকে পড়া প্রায় ২০ হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতে দিনরাত চেষ্টা করে চলেছেন তাঁরা।

 

আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনাদের ঐকান্তিক সহযোগিতায় আজ ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতি (#BGVS)-র পক্ষ থেকে ব্যাঙ্গালোরের...

Posted by Dhiman Sau on Wednesday, 29 April 2020

 

করোনার প্রকোপে গোটা দেশ জুড়ে যখন লকডাউনের কড়াকড়ি, তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, যেমন মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, কেরলের মতো রাজ্যগুলিতে আটকে পড়েছেন অগুণতি পরিযায়ী শ্রমিক। এঁরা এসেছেন মূলতঃ নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগণা এবং হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। এদের মধ্যে কেউ রাজমিস্ত্রি বা রাজমিস্ত্রির সহায়ক, তো কেউ আবার কাঠের মিস্ত্রি, বস্ত্রনির্মাণ শিল্পী, অলংকার শিল্পী বা গাড়ির ড্রাইভার। অনেকেই আবার সিকিউরিটি গার্ড, ইন্টিরিয়র ডেকরেশন বা বহুতল অ্যাপার্টমেন্টে মেইন্টেনেন্স স্টাফের কাজ করেন। এরা পুরোপুরি দৈনিক মজুরির উপর নির্ভর না করলেও এদের আর্থিক অবস্থা তেমন স্বচ্ছল নয়।

 

গতকাল পূর্ব ব্যাঙ্গালোরের সাঁইবাবা হাসপাতালের সন্নিকটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত চিকিৎসা করাতে আসা রোগীর বাড়ির লোকজন প্রকাশ্যে...

Posted by Dhiman Sau on Wednesday, 29 April 2020

 

এই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলির অবস্থা আরও করুণ। এদের পরিবারের মহিলারা মূলতঃ আবাসনগুলিতে পরিচারিকার কাজ করেন। এদের বাস মূলতঃ পূর্ব ব্যাঙ্গালোরের হোয়াইটফিল্ড, বেলান্দুর, ভার্থুর, কুন্দনাহাল্লি অঞ্চলে বড় বড় অ্যাপার্টমেন্টের পিছনে টিনের আর প্লাস্টিকের অস্থায়ী ছাউনিগুলিতে। লকডাউনে এমন অগুণতি পরিবার আছেন যাদের কাছে তাদের শিশুদের মুখে দুধটুকু তুলে দেওয়ার ক্ষমতাটাও নেই। স্থানীয় পরিচয় পত্রের অভাবে এরা স্থানীয় সরকারের সকল সাহায্য থেকেও বঞ্চিত। একই রকম সংকটে পড়েছেন তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, গ্রামের বাড়িতে থাকা তাদের মা, বাবা ও পরিবার পরিজন।

এই আশঙ্কাজনক কথা জানতে পেরে অফিসে "ওয়ার্ক ফ্রম হোম" থাকা সত্ত্বেও নিজেদের রাজ্যে ফিরে না গিয়ে তাঁরা ব্যাঙ্গালোরে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আসন্ন এই ভয়ঙ্কর দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়াতে সাহায্যের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয় কর্ণাটক 'ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতি'। ২৫ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে ব্যাঙ্গালোরে আটকে পড়া বহু পরিযায়ী শ্রমিকদের খোঁজ পান এই দল, যার অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গবাসী। ৩১ মার্চ থেকে ৮ টি গাড়ির ইমারজেন্সি পাশ জোগার করে সমস্ত নিয়মাবলী মেনে শুরু হয় কাজ। মাত্র ২০ জনের দল প্রতিদিন ২০ হাজার আটকে পড়া মানুষের দায়িত্ব তুলে নিয়েছে। এক নাগরিক হিসেবে সহায়সম্বলহীন পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে এক সহনাগরিকের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এই দল। যখন যেখানে থেকে ফোন এসেছে সেখানেই নির্দিদ্ধায় ছুঁটে গিয়েছে এই দল। 

 

ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতি (#BGVS)-এর পক্ষ থেকে আমরা আরও একবার আপনাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি। পূর্ব ব্যাঙ্গালোরের এই...

Posted by Dhiman Sau on Tuesday, 28 April 2020

প্রতিদিন নিজেদের অফিস কাজ সামলে, সকল বিনোদন ও বিলাসিতাকে দূরে ঠেলে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই দেশ জোড়া লকডাউনের মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকার। এই দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন বহু শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের আর্থিক অনুদান ছাড়া এই কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়তো সম্ভবপর হতো না 'ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতি'-এর এই দলের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বেড়েছে, ঠিক একই সঙ্গে তাঁদের স্বেচ্ছাসেবক সংখ্যা ও অর্থসংগ্রহও অপ্রতুল। এখনও এমন বহু পরিযায়ী শ্রমিক সঙ্কটে আছেন, তাঁদের কাছে পৌঁছতে এরা প্রস্তুত। 'ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতি'-এর এই দলের একান্ত অনুরোধ, "যে আপনারাও এই দুর্যোগের সময়ে এগিয়ে আসুন। এই লড়াইটা আমাদের সকলের। আপনার সামান্য একটি আর্থিক অনুদানও একটি শ্রমিক পরিবারকে খাবার যোগাতে পারে, আপনার সামান্য একটু সাহায্য একটি শ্রমিককে তার বেঁচে থাকার লড়াইয়ে জিতিয়ে দিতে পারে।"

ফেসবুক পেজ লিঙ্ক- https://www.facebook.com/dhiman.sau

'ভারত জ্ঞান বিজ্ঞান সমিতি'
অ্যাকাউন্ট নম্বর- ০৬৮৩১০১০১৫১৬৭
আইএইএসসি নম্বর- সিএনআরবি০০০০৬৮৩
গুগল পে / ফোন পে - ৯৬২০৪৪১৭১৩