ওর মুখটাকে পুড়িয়ে দাও। ক্ষতবিক্ষত করে দাও। যাতে করে কোথাও যেন কাজ পেতে না-পারে ও।

ঠিকই। মহিলাদের মুখে অ্য়াসিড ছুড়ে দেওয়ার পিছনে সবচেয়ে বড় দুরঅভিসন্ধি হল, মুখটাকে এমনভাবে বিকৃত করে দেওয়া যাতে সমাজে সে যেন তার পোড়ামুখ দেখাতে না-পারে। সবাই যাতে সেই মুখ দেখে শিউরে  ওঠে। ভবিষ্য়তে কোথাও যেন কাজ না-পায় সে। আর ঠিক সেই মানসিকতাকেই চ্য়ালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বেনারসের অরেঞ্জ কাফে। যা আর কিছুদিনের মধ্য়েই চালু হতে চলেছে। সেখানে ওয়েটার থেকে শুরু করে শেফ, এমনকি ক্য়াশ কাউন্টারে বসা কর্মী, সবাই হবেন অ্য়াসিড আক্রান্ত।

রেড ব্রিগেড বলে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা অজয় কুমার প্য়াটেলে মস্তিষ্কপ্রসূত এই ক্য়াফে। আগ্রা আর লখনৌয়ের পর দেশের তৃতীয় অ্য়াসিড আক্রান্ত পরিচালিত কাফে।  অজয়ের রেড ব্রিগেডের কাজ হল আত্মরক্ষার  লক্ষ্য়ে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। একদিন তিনি ঠিক করেন, গোটা উত্তরপ্রদেশ ঘুরে অ্য়াসিড আক্রান্তদের খুঁজে বের করবেন। তারপর তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করবেন। সেই মতো তিনি চষে ফেললেন উত্তরপ্রদেশ। দেখা করলেন অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলাদের সঙ্গে। তাঁদের মধ্য়ে থেকে চারজন বেনারসে আসতে রাজি হলেন, কাফেতে কাজ করার জন্য়। এখন তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। রান্না থেকে শুরু করে ক্য়াশ কাউন্টার সামলানো, বিল তৈরি করা, সব শেখানোর পালা চলছে। কিছুদিনের মধ্য়েই কাফেটি চালু হবে।

 এবার থেকে বেনারসে গিয়ে বিশ্বনাথের মন্দির দেখে সোজা চলে যাবেন এই কাফেতে। এ-ও এক নতুন তীর্থস্থান। তাই না?