চুল ঘন করতে হলে শুধু বাইরে থেকে যত্ন নিলেই হবেনা, মাথার ত্বকের যত্ন নেওয়াও জরুরি। বেছে নিতে হবে সঠিক খাবার। ৫ বিষয় মাথায় রাখলে কমবে চুলের সমস্যা।

পাতলা চুল ঘন করার জন্য শুধুমাত্র ওপরের যত্নই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। সঠিক জীবনযাপন এবং প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার। নারকেল বা রোজমেরি তেল দিয়ে নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজ, পেঁয়াজের রস, অ্যালোভেরা জেল, সুষম ডায়েট (বায়োটিন, প্রোটিন) এবং অতিরিক্ত কেমিক্যাল স্টাইলিং এড়িয়ে চললে চুল ভেতর থেকে পুষ্ট ও ঘন হয়।

ঘন ও স্বাস্থ্যকর চুলের স্বপ্নের বাস্তবায়নে বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:

১. ভেতর থেকে পুষ্টি (ডায়েট ও পুষ্টি):

* প্রোটিন: চুল প্রোটিন দিয়ে তৈরি, তাই খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও দুধ রাখুন।

* ভিটামিন ও মিনারেল: বায়োটিন, ভিটামিন E, আয়রন এবং জিংক সমৃদ্ধ খাবার চুল দ্রুত বাড়াতে সাহায্য করে।

* জল: পর্যাপ্ত জল পান শরীর হাইড্রেটেড রাখে, যা চুলের ফলিকলকে সুস্থ রাখে।

২. চুলের সঠিক যত্ন (বাহ্যিক যত্ন) :

* নিয়মিত ম্যাসাজ: নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েল হালকা গরম করে স্ক্যাল্পে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

* প্রাকৃতিক উপাদান: পেঁয়াজের রসে প্রচুর সালফার থাকে, যা চুলের গ্রোথ বাড়ায়। এছাড়া অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্পের প্রদাহ কমিয়ে চুল ঘন করে।

* রোজমেরি তেল: এটি চুলের বৃদ্ধিতে বিশেষ কার্যকর।

৩. যা বর্জনীয় (ক্ষতি কমানো)

* গরম জল বর্জন: চুলে খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না, এতে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। * কেমিক্যাল স্টাইলিং: অতিরিক্ত ড্রায়ার, স্ট্রেটনার বা হেয়ার কালার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। * ভেজা চুল: চুল ভেজা অবস্থায় আঁচড়াবেন না, কারণ তখন চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে

৪. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন :

* মানসিক চাপ কমানো: অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress) চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। * পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা সুনিদ্রা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। * সঠিক শ্যাম্পু: চুল ধোয়ার জন্য মাইল্ড বা সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

৫. ঘরোয়া টোটকা

* মেথি: এক রাত মেথি ভিজিয়ে রেখে পেস্ট তৈরি করে স্ক্যাল্পে লাগান, এটি চুল পড়া কমিয়ে ঘন করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে পাতলা চুলও ধীরে ধীরে ঘন ও মজবুত হয়ে ওঠে।