খাবারে স্বাদ আনতে যার জুড়ি মেলা ভার, সেই আজিনামোটোই কিনা শেষে ভিলেন? চাইনিজ পদ মানেই তো আজিনা মোটো। তবেই না স্বাদ। আর তাই তো একে বলা হয় ফ্লেভার এনহানসার। কিন্তু একে বর্জন করা ছাড়া উপায় কী। সাম্প্রতিক সব গবেষণা বলছে, এটি কিন্তু আদতে মারাত্মক। স্বাদ বাড়াতে যেমন এর জুড়ি নেই, তেমনি শরীরে রোগবিসুখ বাড়াতেও কিন্তু এর বিকল্প পাওয়া কঠিন। এমনকি ক্য়ানসারের জন্য়ও এখন কাঠগড়ায় তোলা হয় এই আজিনামোটোকে। আর, চাইনিজ রেস্তোরাঁ সিনড্রোমের জন্য় সরাসরি দায়ী করা হয় একে।

কী এই চাইনিজ রেস্তোরাঁ সিনড্রোম, জেনে নেওয়া যাক।

 একে কোনও নির্দিষ্ট রোগ না-বলে বিভিন্ন রোগের উপসর্গও বলা যেতে পারে। যা সাধারণত চাইনিজ খাবার থেকে হয়। কারণ, ওই চাইনিজ খাবারে স্বাদ আনার জন্য় দেওয়া হয় আজিনামোটো। যার বৈজ্ঞানিক নাম মোনোসোডিয়াম গ্লুকোমেট। তাই ঘনঘন চাইনিজ খাবার খেলে আজিনামোটোর সৌজন্যে  শরীরে নানা সমস্য়া দেখা যায়। কী না হয় এর থেকে। পরিপাকক্রিয়ার সমস্য়া, ঘাড়ে ব্যথা, গা-হাত-পা ব্যথা,  বমিভাব, ক্লান্তি, বুক চিনচিন করা,  হার্টবিট বেড়ে যাওয়া, ত্বক লাল হয়ে গিয়ে গরম হয়ে যাওয়া, গলা-মুখ ফুলে ওঠা, এরকম অনেক সমস্য়া দেখা যায় চাইনিজ রেস্তোরাঁ সিনড্রোমে। যার নেপথ্য়ে রয়েছে আজিনামোটো।

তাই ফাস্টফুড, আজিনামোটো আর চাইনিড রেস্তোরাঁ সিনড্রোম কোথাও যেন মিলেমিশে এক হয়ে যায়। ক্য়ানসারের জন্য়ও আজকাল দায়ী করা হয় ফাস্টফুডকে। তার আসল কারণ হল, ফাস্টফুডে সাধারণত আজিনামোটো মেশানো হয় স্বাদ বাড়াবার জন্য। তাই ফাস্টফুড থেকেই এত বিপত্তি।  ছোটরা চাইনিজ খাবার বা ফাস্টফুডের জন্য বেশি বায়না ধরে। অথচ আজিনামোটো থেকে ছোটদের বিপদের আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ পর্যন্ত ব্য়াহত হতে পারে এর ফলে। গর্ভস্থ ভ্রুণের ক্ষতিও কিছু অসম্ভব নয় এই আজিনামোটো থেকে।

মোট কথা চাইনিজ খাবার কম খান। আর যদি একান্তই মাঝেমধ্য়ে খেতে হয়, তাহলে রেস্তোরাঁয় জেনে নেবেন, খাবারে আজিনামোটো দেওয়া হয়েছে কিনা। আজকাল কিন্তু অনেক ভাল রেস্তোরাঁ আজিনামোটোর ব্য়বহার বন্ধ করে দিয়েছে, চাইনিজ রেস্তোরাঁ সিনড্রোমের কথা ভেবে।